Logo

খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধায় তেহরানে আজও লাখো মানুষের ঢল

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৬ জুলাই, ২০২৬, ০৯:৪৬
খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধায় তেহরানে আজও লাখো মানুষের ঢল
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানী তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে জড়ো হচ্ছেন লাখো মানুষ। রাষ্ট্রীয় আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই শোকানুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের দাবি, উপস্থিতির দিক থেকে এটি দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ শেষ বিদায়ের আয়োজন হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এরপর সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সেখানে প্রয়াত এই ধর্মীয় নেতা এবং তার পরিবারের সদস্যদের মরদেহ রাখা হয়।

বিজ্ঞাপন

সোমবার রাজধানীর প্রধান সড়কজুড়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিশাল শেষযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শোকানুষ্ঠানের অংশ হিসেবে খামেনির মরদেহ শুধু তেহরানেই নয়, পরবর্তী কয়েক দিনে ইরানের বিভিন্ন শহর এবং প্রতিবেশী ইরাকেও নেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পান।

আয়োজকদের ধারণা, আগামী কয়েক দিন তেহরানে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে। সোমবার ফ্রিডম স্কয়ারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খামেনির কফিন রাখা হবে, যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসংখ্য মানুষ অংশ নেবেন।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মরদেহ নেওয়া হবে পবিত্র নগরী কোমে। এরপর ৮ জুলাই ইরাকের কারবালা ও নাজাফে নেওয়া হবে। সর্বশেষ ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান মাশহাদে মরদেহ পৌঁছাবে। সেখানেই ইমাম রেজা (আ.)-এর মাজার সংলগ্ন স্থানে তাকে দাফন করা হবে।

বিজ্ঞাপন

শোক সমাবেশে অংশ নেওয়া বহু মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক হামলায় খামেনি ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় শোক প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জাতীয় সংহতি, প্রতিরোধের বার্তা এবং রাষ্ট্রীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও এটি তুলে ধরতে চাইছে ইরান।

বিজ্ঞাপন

শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে খামেনির তিন ছেলে বাবার কফিনের পাশে উপস্থিত থেকে জানাজায় অংশ নেন। তবে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় আহত হওয়ার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি এখনও জনসমক্ষে আসছেন না।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোমবার তেহরানের আকাশসীমা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব নিয়মিত ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হলেও ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আরও একদিন বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া ৯ জুলাই মাশহাদে চূড়ান্ত দাফন অনুষ্ঠানের দিন শহরের আকাশসীমা এবং শহীদ হাশেমিনেজাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। তবে মাশহাদগামী ফ্লাইট ছাড়া দেশের অন্যান্য রুটে বিমান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD