Logo

চুক্তিভঙ্গের জবাব : ইরানে ৯০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪:২২
চুক্তিভঙ্গের জবাব : ইরানে ৯০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার পর আবারও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরই টানা দ্বিতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে তারা ইরানের প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে এই অভিযানের ভিডিওও প্রকাশ করা হয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের ওপর হামলা চালানোর সক্ষমতা দুর্বল করাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের গুদাম, নৌ সক্ষমতা এবং উপকূলজুড়ে থাকা সামরিক রসদ অবকাঠামো।

মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, আগের রাতের সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতা হিসেবেই এই নতুন হামলা চালানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

হামলার পর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির উপকূলবর্তী বন্দর শহর সিরিক, বন্দর আব্বাসসহ দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। কোনারাক ও চাবাহারেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শুধু বন্দর আব্বাসেই অন্তত আটটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি সিরিক ও জাস্ক বন্দরে দুটি করে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।

দীর্ঘদিন ধরে মালিকানা বিরোধে থাকা আবু মুসা দ্বীপেও দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ইরানের সরকারি সম্প্রচার সংস্থা জানিয়েছে, সিস্তান ও বেলুচেস্তান প্রদেশের ইরানশাহর বিমানবন্দরের একটি ভবন ও রানওয়েতে বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ওই হামলায় বিমানবন্দর স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এক দমকলকর্মী নিহত হয়েছেন।

এছাড়া চাবাহারে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং বুশেহরে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) একটি ব্যারাক ও দপ্তরে আগুন লাগার খবরও প্রকাশ করেছে দেশটির গণমাধ্যম।

মার্কিন হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বাহরাইনের রাজধানী মানামায় বিস্ফোরণের ঘটনা, কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহতের খবর এবং কাতারের নিরাপত্তা সতর্কতা জারির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা রাতভর কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটি এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চুক্তিভঙ্গের’ জবাব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে।

বুধবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে অত্যন্ত শক্তভাবে আঘাত করেছে এবং ইরানের প্রতিটি হামলার জবাবে তারা ২০ গুণ বেশি শক্তি প্রয়োগ করবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও দাবি করেন, ইরান চুক্তির জন্য যোগাযোগ করেছে। তবে তেহরান কোনো সমঝোতা মেনে চলবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।

গত ১৭ জুন দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর মঙ্গল ও বুধবারের এই সংঘাতকে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, সেই যুদ্ধবিরতি এখন কার্যত ভেঙে গেছে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা অশ্লীলতার জবাব অশ্লীলতায় নয়, বরং নির্ভীক ও দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে দিই।’

বিজ্ঞাপন

সূত্র: বিবিসি বাংলা

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD