Logo

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের দামামা, চলছে পাল্টাপাল্টি হামলা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৯ জুলাই, ২০২৬, ১৩:৪৮
মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধের দামামা, চলছে পাল্টাপাল্টি হামলা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে যাওয়ার পর ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। বুধবারের এই হামলাকে জুনের মাঝামাঝি যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুমকি মোকাবিলায় ইরানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইরানশাহর বিমানবন্দরে হামলায় এক দমকলকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইরানশাহর, বন্দর আব্বাস, কোনারাক, চাবাহার, বুশেহর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আক কালা এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মেহর সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বন্দর আব্বাস এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েছে। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, চাবাহারে একটি সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার ও একটি ডিপো লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আক কালায় একটি রেলসেতুও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন হামলার কয়েক ঘণ্টা পর বাহরাইনে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রকেট ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ইরানিদের কঠোর জবাবের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

এর একদিন আগে মঙ্গলবারও ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে আঘাত হেনেছে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবারের হামলায় বন্দর আব্বাস ও বুশেহর এলাকায় বিমান ও নৌবাহিনীর অন্তত আট সদস্য নিহত হয়েছেন।

যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরকে দায়ী করছে। দুই দেশের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইরানের। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এটি একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং সব দেশের জাহাজের অবাধ চলাচলের অধিকার রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের ব্যবস্থাপনাতেই উন্মুক্ত থাকবে, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তারও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে খুব কঠোরভাবে আঘাত করেছে এবং প্রয়োজন হলে আরও বড় ধরনের হামলা চালানো হবে। তার ভাষায়, ‘ওরা একবার হামলা করলে আমরা ২০ গুণ জবাব দেব।’

তবে একই দিনে আরেক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তার ধারণা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ আবার শুরু হবে না এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

বিজ্ঞাপন

নতুন এই সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী নেতারা। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আরও প্রাণহানি এবং বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হবে। সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনও ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন।

ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ অবকাঠামোয় হামলার মতো পদক্ষেপও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া খার্গ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প, যা বাস্তবায়িত হলে স্থলবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD