জেনেরিক ওষুধে ২০০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের, চাপে পড়ছে ভারত

সব ধরনের আমদানিকৃত জেনেরিক ওষুধের ওপর ধাপে ধাপে শুল্ক বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে নতুন এ শুল্কনীতি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না; এটি ২০২৮ সালের ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সব জেনেরিক ওষুধের ওপর শুল্ক থাকবে শূন্য শতাংশ। এরপর ২০২৭ সালের আগস্ট থেকে এক বছরের জন্য ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। আর ২০২৮ সালের ১ আগস্ট থেকে আমদানিকৃত জেনেরিক ওষুধের ওপর স্থায়ীভাবে ২০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন আবারও শক্তিশালী করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেসব কোম্পানি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশটিতে কারখানা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলবে না, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, পেটেন্টকৃত, ব্র্যান্ডেড বা উদ্ভাবনী ওষুধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
জেনেরিক ওষুধ হলো কোনো ব্র্যান্ডেড ওষুধের সমমানের বিকল্প, যাতে একই সক্রিয় উপাদান (এপিআই) থাকে এবং কার্যকারিতাও প্রায় একই। সাধারণত কোনো ওষুধের পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই জেনেরিক সংস্করণ বাজারে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতি যদি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হতো, তাহলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেত ভারত। কারণ ‘বিশ্বের ফার্মেসি’ হিসেবে পরিচিত দেশটি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ জেনেরিক ওষুধ রপ্তানি করে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্যবহৃত জেনেরিক ওষুধের প্রায় ৪০ শতাংশই ভারত থেকে আমদানি করা হয়।
বিজ্ঞাপন
ভারতের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটি ২ হাজার ৫৮০ কোটি ডলারের জেনেরিক ওষুধ রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৯৭০ কোটি ডলারের ওষুধ। একই বছরে ভারতের মোট জেনেরিক ওষুধ রপ্তানি আয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশ এসেছে মার্কিন বাজার থেকে।
সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি








