৬ দিনের বিরতির পর আবারও ইরানে রাতভর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

ছয় দিনের বিরতির পর আবারও ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) পরিচালিত এই অভিযানে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৮টার দিকে হামলা শুরু হয়। এর পরপরই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন প্রদেশ ও দ্বীপে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিও বিস্ফোরণের বিষয়টি জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই অভিযানের বর্ণনা দিয়ে এটিকে ‘শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেছে।
হামলার সময় দক্ষিণ ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে কেশম দ্বীপে অন্তত তিনটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণের পর দ্বীপটির বিভিন্ন এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া বন্দর আব্বাস, কিশ দ্বীপ এবং আবু মুসা দ্বীপেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে খুজেস্তান প্রদেশের আবাদান এবং ফার্স প্রদেশের কাজেরুন শহরেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি বুশেহর প্রদেশও আবারও হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই হামলার আগে অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। একদিন আগে ইরাকে ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের যৌথ বাহিনী হামলা চালায়। ওই হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।
বিজ্ঞাপন
এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সেই ঘটনার প্রতিক্রিয়াতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে নতুন করে এই বিমান হামলা চালিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
বিজ্ঞাপন
তবে সর্বশেষ হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিংবা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট পক্ষ। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল এবং নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া আসে কি না, সেদিকেও দৃষ্টি রয়েছে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।








