পাকিস্তানের আজাদ কাশ্মিরে নির্বাচনী সহিংসতায় ৩০ জন নিহত

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মিরে বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে সহিংসতায় ৩০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে আন্দোলনকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য— উভয় পক্ষের লোকজন রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আজাদ কাশ্মিরে মোট ১০টি জেলা রয়েছে, যা মুজাফফরাবাদ, পুঞ্চ ও মিরপুর—এই তিন বিভাগে বিভক্ত। গত ২৭ জুলাই প্রথম দফায় মিরপুর বিভাগের কোটলি, মিরপুর ও ভিম্বার জেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
৫৩ সদস্যের আজাদ কাশ্মির বিধানসভায় স্থানীয় ভোটারদের জন্য ৩৩টি আসন রয়েছে। বাকি ২০টি আসনের মধ্যে ১২টি ভারতের জম্মু-কাশ্মির থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য এবং আটটি নারী, উলেমা ও টেকনোক্র্যাটদের জন্য সংরক্ষিত।
‘শরণার্থী কোটা’ বাতিলের দাবিতে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে আজাদ কাশ্মিরভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে)। আন্দোলনের জেরে গত জুনে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে তিন বিভাগেই একই দিনে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে নির্বাচন তিন ধাপে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। প্রথম ধাপের ভোট হয় মিরপুর বিভাগে। আগামী ২ ও ১০ আগস্ট যথাক্রমে পুঞ্চ ও মুজাফফরাবাদ বিভাগের সাত জেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভোটের দিন কোটলি, মিরপুর ও ভিম্বারের বিভিন্ন কেন্দ্রে নিরাপত্তা বাহিনী ও জেএএকে সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব সংঘর্ষেই নিহতের সংখ্যা ৩০ জনের বেশি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে মে ও জুন মাসে জেএএকের আন্দোলনের সময় পুরো আজাদ কাশ্মিরে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ভোটের পরও সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
রাজধানী মুজাফফরাবাদের বাসিন্দা ফজল মাহমুদ বেইগ বলেন, এই নির্বাচনকে তিনি বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন না। তার আশা, চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে।
সূত্র: রয়টার্স








