মার্কিন রাষ্ট্রদূতের যোগদান আটকে রেখেছে ব্রাজিল, ক্ষুব্ধ ওয়াশিংটন

ব্রাজিলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক অনুমোদন (আগ্রেমো) এখনো দেয়নি ব্রাজিল সরকার। কয়েক সপ্তাহ ধরে এ প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় ওয়াশিংটনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বিশ্বের দুই বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠছে।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। আগ্রেমো জটিলতা অব্যাহত থাকলে নির্বাচনের আগেই দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত দায়িত্ব নিতে পারবেন না। এর প্রভাব ইতোমধ্যে দুই দেশের বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও পড়তে শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত ১ জুন ফ্লোরিডার প্রতিনিধি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড্যানিয়েল পেরেজকে ব্রাজিলে রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ব্রাজিল সরকারের আনুষ্ঠানিক সম্মতি নেওয়ার আগেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়, যা কূটনৈতিক রীতিনীতির পরিপন্থী বলে মনে করছে ব্রাজিল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ব্রাসিলিয়ার কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ ঘটনাকে ব্রাজিল সরকার কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ব্যত্যয় হিসেবে দেখছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে পেরেজের মনোনয়ন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, ব্রাজিলের আগ্রেমো না পাওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্রের দাবি, ব্রাজিলের ধীরগতির অবস্থানে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ। তাদের একজন ইঙ্গিত দিয়েছেন, দ্রুত সমাধান না হলে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।
বহুদিন ধরেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ব্রাজিলের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে রক্ষণশীল শক্তিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের দাবি, ব্রাজিলে রক্ষণশীল রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিচারিক বৈষম্য ও মতপ্রকাশে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করবেন—এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রেসিডেন্টের। বিদেশি কোনো দেশের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে ব্রাজিলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কূটনৈতিক বিধি মেনেই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাদের একজন বলেন, আগ্রেমো দেওয়া হবে কি না, তা নয়; বরং কবে দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সম্পূর্ণভাবে স্বাগতিক দেশের।
ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী আগ্রেমো সংক্রান্ত সব কার্যক্রম গোপনীয়। তাই এ বিষয়ে তারা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করবে না।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা চতুর্থ মেয়াদের জন্য লড়বেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো, যিনি নিজেকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে তুলে ধরছেন।
বিজ্ঞাপন
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ব্রাজিলের দুটি অপরাধী গোষ্ঠীকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। পাশাপাশি কিছু ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কও আরোপ করেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের দুই কর্মকর্তার ব্রাজিল সফরের ভিসা আবেদনও প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রাজিল সরকার।
এদিকে সিনেটে শুনানির সময় ড্যানিয়েল পেরেজ বলেছেন, দায়িত্ব পেলে ব্রাজিলের আসন্ন নির্বাচন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করাই হবে তার অগ্রাধিকার। পাশাপাশি জ্বালানি ও কৃষিখাতে বিদ্যমান বাণিজ্যিক বৈষম্য কমানোর বিষয়েও তিনি কাজ করতে চান।
সূত্র: রয়টার্স








