Logo

গাজায় ‘গণহত্যা’ চালাতে ইসরায়েলকে লাখ লাখ অস্ত্র-গোলাবারুদ দিয়েছিল ভারত!

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ জুলাই, ২০২৬, ১৭:৪৪
গাজায় ‘গণহত্যা’ চালাতে ইসরায়েলকে লাখ লাখ অস্ত্র-গোলাবারুদ দিয়েছিল ভারত!
ছবি: সংগৃহীত

গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসনের মধ্যেও ভারতের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটিতে আড়াই হাজারের বেশি চালানে কয়েক লাখ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত একটি নতুন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায়।

‘মেড ইন ইন্ডিয়া: দ্য সাপ্লাই অব ওয়েপনস অ্যান্ড অ্যামিউনিশন টু ইসরায়েল’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে এসব সামরিক চালান পাঠানো হয়। এসব চালানের মধ্যে ছিল মেশিনগানের যন্ত্রাংশ, ১৫৫ মিলিমিটার কামানের গোলা, স্কাইস্ট্রাইকার ড্রোনে ব্যবহৃত বিস্ফোরক এবং সাঁজোয়া যানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।

অ্যামনেস্টির তথ্যমতে, ওই সময়ে পাঠানো চালানগুলোতে সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি বিস্ফোরক অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, প্রায় চার লাখ ছোট অস্ত্রের বিভিন্ন উপাদান এবং ২৯৮টি সামরিক যানের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।

বিজ্ঞাপন

সংস্থাটির গবেষকেরা আন্তর্জাতিক কাস্টমস ক্লাসিফিকেশন সিস্টেম বা ‘এইচএস কোড’ ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই তালিকা প্রস্তুত করেছেন। দ্বিমুখী ব্যবহারের অস্ত্র বা বেসামরিক কাজের সরঞ্জাম এই হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে বাস্তবে ভারতের সামরিক সহায়তার পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা গবেষকদের।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ভারতের ৯টি কোম্পানি এবং সরকারের কাছে চিঠি পাঠালেও কোনো জবাব পায়নি অ্যামনেস্টি।

বিজ্ঞাপন

সংস্থাটির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) যেখানে গাজায় গণহত্যার ঝুঁকির কথা জানিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন, সেখানে ভারত না জানার ভান করতে পারে না। ইসরায়েলি বাহিনী যখন গাজায় অগণিত মানুষের মৃত্যু ও দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে, তখন ভারতীয় কোম্পানিগুলো অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে মুনাফা তৈরি করছে—যা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার সম্পর্ক বেশ জোরদার হয়েছে। ভারত বর্তমানে ইসরায়েলি সমরাস্ত্রের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। অন্যদিকে আইসিজে-তে দক্ষিণ আফ্রিকার তোলা গণহত্যা মামলায় যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পাশাপাশি ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে এসেছে দিল্লি।

অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর সম্প্রতি বলেছেন, ভারতের অস্ত্র রপ্তানি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়। তিনি আরও দাবি করেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে ইসরায়েল সব সময় ভারতের পাশে থেকেছে এবং দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক সেই ভিত্তিতেই আরও শক্তিশালী হয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD