গালাগালির অভিযোগ তুলে মধ্যরাতে ভিডিও বার্তা মোদির

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে আলোচনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি তাকে গালাগাল করার অভিযোগ তুলে সংযম প্রদর্শন এবং অভিযুক্তদের প্রতি ক্ষমাশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনযায়ী, মোদী অভিযোগ করে বলেন, ‘যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে তা দেশ ও বিশ্ব দেখেছে। কিছু বিপথগামী তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে যার কোনো সভ্য সমাজে স্থান নেই। আমাকে গালি দেয়া হয়েছে, এমনকি আমার প্রয়াত মাকেও গালি দেওয়া হয়েছে।’
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে অশালীন ভাষা ব্যবহারের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে ওই বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কয়েক দিন পর এমন মন্তব্য করলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৩ জুলাই যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভের সময় ২৫ বছর বয়সী এক নারী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে ওই মন্তব্যের পরও মোদি জানান, তিনি মনে করেন না এর সমাধান রাগ বা প্রতিশোধের মধ্যে নিহিত আছে। বরং, তিনি বিক্ষোভকারীদের এমন তরুণ হিসেবে বর্ণনা করেন যারা নিজেদের ভুল থেকে শিখতে সক্ষম। প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘গালিগালাজ করে কোনো কিছুর সমাধান হয় না। আসুন, বিপথগামীদের পথ দেখাই। আসুন, একসঙ্গে কাজ করি। আসুন, ভারতের জন্য কাজ করি।’
ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘শৈশবে ভুল হয়, এবং শৈশবই সেই ভুলগুলো শুধরে নেয়ার সুযোগ করে দেয়। তরুণ বয়স মানেই তো এমন। সমাজে ক্ষোভ আছে এবং আমি তা বুঝি। কিন্তু এখন সময় এই শিশুদের আপন করে নেওয়ার এবং তাদের সঠিক পথ দেখানোর। তারা বিপথগামী শিশু। তাদের পথ দেখানো আমাদের কর্তব্য। তাদের শাস্তি দেয়া, আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়া এবং হয়রানি করা পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন আনবে না।’
বিজ্ঞাপন
যারা ওই মন্তব্যের জন্য দায়ী, তাদের ক্ষমা করে দিতে চান বলেও জানান মোদি। একই সঙ্গে সমাজকেও তাদের ক্ষমা করে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে গালাগালির ঘটনায় নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২, ৩৫৩(১) ও ৩৫৬(১) ধারায় করা হয় মামলাটি। এসব ধারার মধ্যে শান্তি ভঙ্গের জন্য উসকানি, জনমনে বিভ্রান্তি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এমন বক্তব্য এবং মানহানির অভিযোগের বিষয় রয়েছে।
জিরো এফআইআরের বিধান অনুযায়ী, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার স্থান সংশ্লিষ্ট থানার আওতার বাইরে হলেও প্রাথমিকভাবে অভিযোগ গ্রহণ করা যায়। সেই নিয়ম অনুসারেই প্রথমে নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় অভিযোগটি নথিভুক্ত করা হয়। পরে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে মামলাটি দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনাটি নিয়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, বিক্ষোভে ব্যবহৃত ভাষা যদি সত্যিই আপত্তিকর হয়ে থাকে, তাহলে তা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে কেবল বক্তব্য বা মন্তব্যের কারণে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইন প্রয়োগ করা সমর্থনযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।








