বীমার ৪৪ লাখের লোভে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করে গাড়ি চাপা দিলেন স্বামী

ভারতের উত্তর প্রদেশের হামিরপুরে ৪৪ লাখ রুপির বীমার অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার পর ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
নিহত নারীর নাম রিতা। তার স্বামী অমর সিং প্রথমে স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে থানায় অভিযোগ জানাতে যান। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার বক্তব্যে অসংগতি ধরা পড়ে। সন্দেহ বাড়তে থাকায় তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।
পুলিশের কাছে অমর সিং জানান, বীমার টাকা পাওয়ার আশায় তিন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রীকে কাঠ ও লাঠি দিয়ে মারধর করে হত্যা করেন তিনি। পরে হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে রিতার মরদেহের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
গত বুধবার গভীর রাতে হামিরপুরের লালপুরা এলাকার বৈঠকা ধাম মন্দিরের কাছ থেকে রিতার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শরীরে মিলেছে একাধিক আঘাতের চিহ্ন
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে রিতার শরীরে ১২টিরও বেশি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কিডনি ছাড়া তার শরীরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অঙ্গ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিজ্ঞাপন
নিহতের বাবা সর্বেশ কুমার জানান, ২০০২ সালে মইনপুরীতে রিতার বিয়ে হয়। ওই সংসারে তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর রিতা কানপুরের গুজাইনি এলাকায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে আটার একটি কারখানায় কর্মরত অমর সিংয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দুই বছর আগে তারা বিয়ে করেন।
সর্বেশ কুমারের দাবি, হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই মাস আগে অমর সিং রিতার নামে ৪৪ লাখ রুপির একটি বীমা পলিসি করেন। এর প্রথম কিস্তি হিসেবে ২ লাখ ৬০ হাজার রুপিও জমা দেওয়া হয়েছিল।
হামিরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অরবিন্দ কুমার ভার্মা জানান, অমর সিং নিজেই স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়ে থানায় এসেছিলেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তার বক্তব্যে অসংগতি পাওয়া যায়। পরে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অমর সিং ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে রিতার সন্তানরা মইনপুরীতে তাদের দাদা-দাদির কাছে রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি








