ইরান যুদ্ধে কৌশলগত পরাজয়ের পথে যুক্তরাষ্ট্র, লক্ষ্য অর্জনেও ব্যর্থ

ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক অভিযানের পরও নিজেদের ঘোষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র—এমন দাবি উঠেছে। সামরিক সক্ষমতায় এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও তেহরানের নীতি ও আচরণে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে কৌশলগত ব্যর্থতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সাবেক কূটনীতিক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এসব বিষয় উঠে এসেছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত নিয়ে চাপের মুখে পড়ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ অব্যাহত থাকলেও দেশটি এখনো মধ্যপ্রাচ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ধরে রেখেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলমান সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। প্রণালির নিয়ন্ত্রণে তৃতীয় কোনো পক্ষের ভূমিকার বিষয়টি ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে ভবিষ্যৎ আলোচনায় হরমুজকে দর-কষাকষির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে পারে তেহরান—এমন মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, সামরিক অভিযানে ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপরও দেশটির প্রভাব বজায় রয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ই তুলনামূলকভাবে কঠিন অবস্থানে পড়েছে এবং পরিস্থিতির দায় নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়ছে।
বিজ্ঞাপন
দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যেও ওয়াশিংটনের নীতির ধারাবাহিকতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি ইরান, ইউরোপ, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে কিছু দেশ আগ্রহী হয়ে উঠছে।
দীর্ঘায়িত যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যেও কৌশলগত মতপার্থক্য বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের নেতৃত্বও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলে সেটি কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সন্দিহান বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ন্যাটো ও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের অবস্থান মিত্রদের মধ্যে আস্থার সংকট আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষকদের মূল্যায়নে, এখন পর্যন্ত যুদ্ধের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ব্যর্থতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে নিরাপত্তার জন্য ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল মিত্রদের মধ্যেও আস্থা কমতে পারে।
বিজ্ঞাপন
সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব, কূটনৈতিক সক্ষমতা ও মিত্রদের কাছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত কোনো পক্ষের চূড়ান্ত বিজয়ের সম্ভাবনা কম। বরং সংঘাতটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও পুনরায় উত্তেজনা বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি চক্রে গড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস








