গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার কথা বলায় ভারতের কোনো বাধা নেই

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৫ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুই বছর পূর্তিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি দেশের রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে নিজের অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারেন বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) সাউথ এশিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এই সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা সরাসরি উপস্থিত থাকবেন না। তিনি অডিও সংযোগের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হবেন বলে জানিয়েছেন এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ড. ওয়ায়েল আউয়াদ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ থাকা সত্ত্বেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার নীতির প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
ড. ওয়ায়েল আউয়াদ আরও জানান, গত ১৯ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে একাধিকবার এফসিসিতে বক্তব্য দেওয়া এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তিনি এখন পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেননি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ভারতের সংসদীয় কমিটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার ক্ষেত্রেও এফসিসি তাদের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি বা বাধা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি।
নয়াদিল্লির মথুরা রোডে অবস্থিত স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে আগামী ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ থাকবে।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনের প্যানেলে শেখ হাসিনার পাশাপাশি সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক, বিশ্লেষক আবু ওবাইদাহ আরিন এবং শাহ মো. বখতিয়ার অংশ নেবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হয়। ওই সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে ও দৈনিক ওয়াদা








