Logo

বেঁচে ফেরা বাংলাদেশিরা জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:৩৪
বেঁচে ফেরা বাংলাদেশিরা জানালেন ভয়াবহ অভিজ্ঞতা
ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আটকে পড়া বাংলাদেশি পর্যটকদের কয়েকজন প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরের ওই ঘটনায় আট বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। আগুনের ভয়াবহতা ও উদ্ধারের মুহূর্তের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশিরা।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার বাসিন্দা মুস্তাফিজুর রহমান বাবার চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। আগুন লাগার সময় তিনি বাবাকে নিয়ে ওই হোটেলেই অবস্থান করছিলেন। পরে দমকলকর্মীদের সহায়তায় দুজনই নিরাপদে বেরিয়ে আসেন।

মুস্তাফিজুর রহমান জানান, রাতে তিনি ও তার বাবা ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ৩টার দিকে আগুনের বিষয়টি বুঝতে পারেন। দরজা খুলতেই চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন দেখতে পান। পরে দমকলকর্মীরা দ্রুত তাদের বের করে নিচে নিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, ধোঁয়ার কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং তারা প্রচণ্ড আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। দমকলকর্মীদের সহায়তায় কোনোভাবে নিরাপদে নিচে নামতে সক্ষম হন তারা।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ জানান, রাত ৩টার দিকে হঠাৎ চিৎকারের শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। তার ছেলে দরজা খোলার পর চারপাশ ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। পরে দমকলকর্মীরা এসে তাদের উদ্ধার করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আব্দুল মজিদ বলেন, তিনি নিজে হাঁটতে পারেন না। দমকলকর্মীরা তাকে ধীরে ধীরে নিচে নামিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।

বিজ্ঞাপন

ঢাকার বাসিন্দা ফাতেমা ছোট ছেলের চিকিৎসার জন্য পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কলকাতায় গিয়েছিলেন। চিকিৎসার পাশাপাশি শহরটি ঘুরে দেখারও পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু ভয়াবহ আগুন সেই পরিকল্পনাকে মুহূর্তেই বদলে দেয়।

ঘটনার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফাতেমা। তিনি জানান, আগুন লাগার সময় হোটেলের ছাদে প্রায় ১৪ জন বাংলাদেশি ছিলেন। নিচে নামার পথ বন্ধ থাকায় তারা আতঙ্কিত হয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন।

ফাতেমার ভাষ্য অনুযায়ী, সবাই একে অপরকে আশ্বস্ত করছিলেন এবং কীভাবে বের হওয়া যায়, তা নিয়ে চেষ্টা করছিলেন। পরে নিচে নামা সম্ভব নয় জানতে পেরে টর্চের আলো জ্বালিয়ে তারা আরও ওপরে ওঠেন। একপর্যায়ে দমকলকর্মীরা এসে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরোনো ও জরাজীর্ণ একটি ভবনে হোটেলটি পরিচালিত হচ্ছিল। সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। দলটি আগুন লাগার কারণসহ ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্ত করছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD