‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ২০০টির বেশি বিমান ভূপাতিত করেছে ইরান’

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ২০০টির বেশি শত্রু বিমান ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় আকাশ প্রতিরক্ষা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ দাবি করেন।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলিরেজা এলহামি জানান, ইরান নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজস্ব প্রযুক্তিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি ও মোতায়েন করে আসছে। কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধের সময় শত্রু বাহিনীও বুঝতে পারেনি, ইরানের কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার গুরুত্ব স্পষ্ট করেছে। নিজস্ব প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও এই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে আরও পরিষ্কার হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে ইরানজুড়ে ৩ হাজার ৮০০টির বেশি স্থানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে বলে একটি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপসমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাদেকিয়ান। তিনি আরও বলেছেন, মোতায়েনকৃত প্রতরক্ষা ব্যবস্থার অনেকগুলোই দুর্গম এলাকায় অবস্থিত।
মোহাম্মদ সাদেকিয়ান বলেন, দেশজুড়ে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চারটি প্রধান মিশন পরিচালনা করে। এগুলো হলো- শনাক্তকরণ, নজরদারি, প্রতিহতকরণ এবং আকাশপথের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা। বিমান প্রতিরক্ষার প্রধান দায়িত্ব হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আকাশসীমায়, এমনকি দেশের আকাশসীমার বাইরেও যেকোনো উড়ন্ত বস্তু শনাক্ত করা।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।
এরপরই পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে ওই সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধের সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা এবং নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা কাঠামোর গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।








