Logo

পাঁচ বছর ধরে গোয়ালঘরেই চলছে ১৭২ শিক্ষার্থীর ক্লাস, খাওয়া-দাওয়া ও ঘুম

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:০৪
পাঁচ বছর ধরে গোয়ালঘরেই চলছে ১৭২ শিক্ষার্থীর ক্লাস, খাওয়া-দাওয়া ও ঘুম
ছবি: সংগৃহীত

পরিত্যক্ত একটি গোয়ালঘরের ভেতরেই চলছে ক্লাস। সেখানেই শিক্ষার্থীদের খাওয়া-দাওয়া করতে হচ্ছে, আবার রাত হলে সেই জায়গাতেই ঘুমাতে হচ্ছে। এমন অস্বাস্থ্যকর ও করুণ পরিবেশে প্রায় পাঁচ বছর ধরে দিন কাটাচ্ছে ভারতের কর্ণাটকের ১৭২ জন শিক্ষার্থী। কর্ণাটকের হাসান তালুকের শান্তিশ্রমে অবস্থিত ডা. বি আর আম্বেদকর আবাসিক বিদ্যালয়ের এই দুরবস্থার খবর প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সমাজকল্যাণ বিভাগের পরিচালনায় ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত এই আবাসিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৯২ জন ছেলে ও ৮০ জন মেয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আবাসনের ব্যবস্থা কিংবা পর্যাপ্ত সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ না থাকায় একই জায়গায় তাদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজ করতে হচ্ছে। এমনকি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও মেঝেতে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়টির যে স্থানে শিক্ষার্থীরা থাকছে ও পড়াশোনা করছে, সেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসেরও ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘ সময় ধরে এমন পরিবেশে বসবাস ও পড়াশোনা করায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাজীবন দুটিই মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট বা স্যানিটেশন ব্যবস্থার অবস্থা আরও শোচনীয়। ৯২ জন বালক শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র ৫টি শৌচাগার, আর ৮০ জন বালিকার ক্ষেত্রে ন্যূনতম মৌলিক সুযোগ-সুবিধাও নেই বললেই চলে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই চরম অব্যবস্থাপনার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা মন্ত্রী এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং স্কুলের অবস্থা ও শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা পর্যালোচনা করে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের গোয়ালঘরে অবস্থানের বিষয়ে সমাজকল্যাণ বিভাগ জানিয়েছে, সেখানে নতুন একটি বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। বিভাগের দাবি, শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত বিকল্প কোনো ভবন পাওয়া না যাওয়ায় সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের ওই গোয়ালঘরে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তবে সেই সাময়িক ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলায় শিক্ষার্থীদের জীবনযাপন ও পড়াশোনার পরিবেশ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশের পর শিক্ষা কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখছে। শিক্ষার্থীদের বর্তমান জীবনযাত্রা, আবাসন, পড়াশোনার পরিবেশ, স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং তাদের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দ্রুত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD