মহাকাশে মার্কিন অস্ত্র, চীন-রাশিয়ার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথমবারের মতো মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, পৃথিবীর কক্ষপথে যুক্তরাষ্ট্রের এমন মহাকাশ নিয়ন্ত্রণকারী অস্ত্র রয়েছে, যা শত্রুপক্ষের মহাকাশভিত্তিক হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহারের সক্ষমতা রাখে।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন স্পেস ফোর্সের প্রধান ডগলাস শাইস জানান, তাদের বাহিনীর সদস্যরা কক্ষপথে থাকা এমন অস্ত্র পরিচালনা করছেন, যা মহাকাশভিত্তিক হামলা থেকে যৌথ বাহিনীকে প্রতিরক্ষা দিতে পারে। এর এক দিন আগে মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মিঙ্কও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের অস্ত্র থাকার কথা জানিয়েছিলেন।
তবে এসব অস্ত্রের ধরন বা নির্দিষ্ট সক্ষমতা প্রকাশ করেননি মার্কিন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা তৈরির অন্যতম উদ্দেশ্য সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করা এবং সামরিক ও মিত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয় মহাকাশ অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকারোক্তির পর চীন ও রাশিয়া উদ্বেগ জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেছেন, বেইজিং মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং নিরাপত্তার পক্ষে। মহাকাশকে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে চীন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রাশিয়াও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েন মহাকাশভিত্তিক কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ মহাকাশে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক এবং কক্ষপথে চলাচল করতে সক্ষম মহাকাশযানের সামরিক সক্ষমতা উন্নয়ন করছে। আধুনিক যুদ্ধে যোগাযোগ, নেভিগেশন ও গোয়েন্দা তথ্যের জন্য স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় মহাকাশের সামরিক গুরুত্বও বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
মহাকাশে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে স্যাটেলাইটের কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে সিগন্যাল জ্যামিং, লেজারের মাধ্যমে সেন্সর অকার্যকর করা কিংবা অন্য মহাকাশযানের গতিপথে হস্তক্ষেপের মতো প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন দেশের সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ২০২২ সালে চীন একটি স্যাটেলাইট দিয়ে অন্য একটি মহাকাশযানকে ধরে কক্ষপথে সরানোর সক্ষমতাও প্রদর্শন করেছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রগুলোর বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করায় প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো নিজেদের মহাকাশ সক্ষমতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন। এতে মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স








