Logo

আদানিকে ছাড়িয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাং ইমিং

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪:৫৫
আদানিকে ছাড়িয়ে এশিয়ার শীর্ষ ধনী টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাং ইমিং
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানিকে পেছনে ফেলে এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হয়েছেন চীনের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাং ইমিং। তার প্রতিষ্ঠিত বাইটড্যান্সের মূল্যায়ন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত বেড়েছে তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ।

বিজ্ঞাপন

ব্লুমবার্গের ধনী ব্যক্তিদের সূচক অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী জ্যাং ইমিংয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ১০৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ২০১৯ সালের মার্চে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ছয় বছরের কিছু বেশি সময়ে তার সম্পদ আট গুণেরও বেশি বেড়েছে।

টিকটকের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত জ্যাং ইমিংয়ের সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ, গত কয়েক বছরে বাইটড্যান্সকে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের কঠোর নিয়ন্ত্রক চাপ মোকাবিলা করতে হয়েছে।

কে এই জ্যাং ইমিং

বিজ্ঞাপন

২০১২ সালে বেইজিংয়ের একটি চার কক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বাইটড্যান্স প্রতিষ্ঠা করেন জ্যাং ইমিং। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বড় সাফল্য ছিল টুটিয়াও। এটি ছিল অ্যালগরিদমনির্ভর সংবাদ ও তথ্যভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্ম।

পরবর্তীতে বাইটড্যান্স চীনে দৌইন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে টিকটক চালু করে। ২০২১ সালে জ্যাং ইমিং বাইটড্যান্সের প্রধান নির্বাহী পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তবে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এখনো কোম্পানিটির ৫০ শতাংশের বেশি ভোটাধিকার তার হাতে রয়েছে।

যেভাবে বাইটড্যান্সের উত্থান

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে জ্যাং ইমিং প্রকৌশলী হিসেবে একটি ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। পরে কিছু সময় মাইক্রোসফটেও কাজ করেন। এরপর তিনি ৯৯ফ্যাং নামে একটি আবাসন খোঁজার প্রতিষ্ঠান চালু করেন।

স্মার্টফোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ার বিষয়টি তিনি শুরুতেই বুঝতে পেরেছিলেন। এ ধারণা থেকেই ২০১২ সালে বাইটড্যান্স প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। ব্যবহারকারীর অনুসন্ধান বা সামাজিক যোগাযোগের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আলাদা ধরনের কনটেন্ট সাজানোর ধারণা নিয়ে এগিয়ে যান তিনি।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে টুটিয়াও চীনের অন্যতম জনপ্রিয় মোবাইল অ্যাপে পরিণত হয়।

বিজ্ঞাপন

২০১৬ সালে চীনে দৌইন চালু করে বাইটড্যান্স। পরের বছর আন্তর্জাতিক বাজারে আসে টিকটক। পরে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারে মিউজিক্যালি কিনে সেটিকে টিকটকের সঙ্গে একীভূত করা হয়। এরপর বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মটি। বর্তমানে এর সক্রিয় ব্যবহারকারী এক বিলিয়নেরও বেশি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় বিনিয়োগ

বাইটড্যান্স বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতেও বড় পরিসরে বিনিয়োগ করছে। প্রতিষ্ঠানটি দৌবাও নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কথোপকথন ব্যবস্থা তৈরির পাশাপাশি বড় আকারের ভিডিও ও মাল্টিমিডিয়া এআই মডেল নিয়েও কাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার প্রধান বিশ্লেষক লিয়ান জে সু ব্লুমবার্গকে বলেন, জ্যাং ইমিং পরিস্থিতি সামলানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন। তবে চীনের এআই খাতে তীব্র প্রতিযোগিতা বাইটড্যান্সের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিয়ন্ত্রক চাপ ও বিতর্ক

সম্পদের দ্রুত বৃদ্ধির পাশাপাশি বাইটড্যান্সকে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে নিষেধাজ্ঞা ও মালিকানা পরিবর্তনের চাপের মুখে পড়ে। জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল এর অন্যতম কারণ।

চীনেও ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানগুলোর একচেটিয়া ব্যবসা এবং অ্যালগরিদম ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কঠোর নজরদারি ও বিধিনিষেধ আরোপ করে।

এসব চাপের মধ্যেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতে বাইটড্যান্সের মূল্যায়ন বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জ্যাং ইমিংয়ের ব্যক্তিগত সম্পদেও। সম্পদের এই দ্রুত বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে তিনি এশিয়ার শীর্ষ ধনী ব্যক্তির তালিকায় উঠে এসেছেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD