উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচলিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না দলটির কোনো পক্ষই। একই সঙ্গে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ব্যবহারের ওপরও অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দেওয়া অন্তর্বর্তী আদেশে কমিশন জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই পক্ষকে উপনির্বাচনে আলাদা নাম ও প্রতীক নিয়ে অংশ নিতে হবে। উভয় পক্ষকে বিকল্প নাম ও প্রতীকের তিনটি করে পছন্দ ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। দুই পক্ষই এসব আসনে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে এবং তৃণমূলের নাম ও প্রতীকের ওপর দাবি জানিয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দলটির সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ, নাম, সম্পদ ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। তাই আসন্ন উপনির্বাচনের আগে কোনো পক্ষকে মূল তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে স্বীকৃতি না দিয়ে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই পক্ষ নিজেদের জন্য আলাদা নাম বেছে নিতে পারবে। চাইলে সেই নামের সঙ্গে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’-এর সঙ্গে সম্পর্কের উল্লেখও রাখা যাবে। একইভাবে কমিশনের তালিকাভুক্ত মুক্ত প্রতীক থেকে প্রতীক বেছে নিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দলটির নাম ও প্রতীক নিয়ে এই বিরোধ তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষ এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পক্ষ—উভয়েই নিজেদের দলটির বৈধ প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের কাছে নথি জমা দিয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে ১২ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। পরে আরও নথি ও চূড়ান্ত বক্তব্য চাওয়া হয়। ১৭ সেপ্টেম্বরের শুনানির পরই উপনির্বাচন পর্যন্ত নাম ও প্রতীক ব্যবহারে এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ‘জোড়াফুল’ বা ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহার করে আসছে। তবে নির্বাচন কমিশনের বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন উপনির্বাচনে এই প্রতীক কোনো পক্ষই ব্যবহার করতে পারবে না।
কমিশন জানিয়েছে, দলীয় নাম ও প্রতীকের ওপর এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। সংশ্লিষ্ট বিধান ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।








