Logo

কিউবায় আবারও বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়, অন্ধকারে কোটি মানুষ

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০:৩০
কিউবায় আবারও বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয়, অন্ধকারে কোটি মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

কিউবায় আবারও বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির লাখো মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। কিউবার জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা’ দেখা দেয়।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা ইউএনই জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় শুরু হয়। কেন্দ্রীয় কিউবার উচ্চভোল্টেজ সঞ্চালন লাইনে ত্রুটি এবং খারাপ আবহাওয়াকে প্রাথমিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিপর্যয়ের পর রাজধানী হাভানার কিছু এলাকায় ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ ফিরতে শুরু করে। হাসপাতাল ও পানি সরবরাহের পাম্পিং স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। শনিবারও দেশজুড়ে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করার কাজ অব্যাহত ছিল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর কিউবার জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে এ ধরনের অন্তত ছয়টি বড় বিপর্যয় ঘটেছে। এর আগে জুলাই মাসেও একাধিকবার পুরো গ্রিড ভেঙে পড়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট ও পুরোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামোর কারণে কিউবায় নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। অনেক এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর বাইরে কিছু এলাকায় এই সময় ৬০ ঘণ্টা ছাড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সঙ্গে পানি সরবরাহ, রান্নার গ্যাস, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থাতেও বিঘ্ন ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

হাভানার বাসিন্দা ফ্র্যাঙ্ক লরেঞ্জো এএফপিকে জানান, গ্রিড বিপর্যয়ের আগের দিনও তিনি প্রায় ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ছিলেন। এক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ ফেরার পর আবারও গ্রিড ভেঙে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

স্কুলশিক্ষিকা লিডিয়া ফার্নান্দেজ বলেন, বিদ্যুতের পাশাপাশি পানি ও রান্নার গ্যাসের সংকটও রয়েছে। একের পর এক সংকট মানুষের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে বলে জানান তিনি।

৭৮ বছর বয়সী ফ্রান্সিসকো রদ্রিগেজ জানান, শুক্রবার তার বাড়িতে এরই মধ্যে ২৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। কয়েক দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ না ফেরার আশঙ্কা করছেন তিনি।

কিউবার বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে জ্বালানি ঘাটতি ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও তেল সরবরাহের ওপর বিধিনিষেধের প্রভাব রয়েছে বলে হাভানা দাবি করে। ওয়াশিংটন অবশ্য কিউবার সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ১১টি প্রতিষ্ঠান ও সামরিক কর্মকর্তার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

বিজ্ঞাপন

কিউবার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আমদানি করা জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ায় পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সঞ্চালন ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিড বারবার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে।

ক্রমাগত বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে কিউবায় জনঅসন্তোষও বাড়ছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কিউবার কর্তৃপক্ষ জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধাপে ধাপে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তবে দেশটির দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কত সময় লাগবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD