চাকরি ছেড়ে ফালুদার দোকান, বছরে আয় ১১ কোটি টাকা

স্বপ্ন পূরণের কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। ভারতের উদ্যোক্তা প্রদীপ কান্নানের গল্প যেন সেই কথাটিই প্রমাণ করে। বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলে এক দশক কাজ করার পর উচ্চ বেতনের করপোরেট চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। সেই উদ্যোগ থেকেই গড়ে ওঠে ডেজার্টভিত্তিক দ্রুত পরিবেশন রেস্তোরাঁর ব্র্যান্ড ‘দ্য ফালুদা শপ’।
বিজ্ঞাপন
২০১৯ সালে প্রদীপ কান্নানের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে ‘দ্য ফালুদা শপ’। বর্তমানে ব্র্যান্ডটির বার্ষিক আয় ৯ কোটি রুপিরও বেশি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১১ কোটি টাকার সমান। ভারতের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতেও রয়েছে এর শাখা। ছোট একটি ডেজার্ট কিয়স্ক থেকে শুরু করে ব্র্যান্ডটি ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক পরিসরেও পরিচিতি তৈরি করছে।
ফালুদাকে নতুনভাবে তুলে ধরার স্বপ্ন
প্রদীপ কান্নান ভারতের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফ্যাশন টেকনোলজি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনের শুরু হয় পোশাকশিল্পে। পরে মুম্বাই থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ডিগ্রি নেন। এরপর সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় কাজ করার সময় ভারত ও দুবাই—দুই জায়গাতেই পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে যোগ দেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলে।
বিজ্ঞাপন
২০১৯ সালে ওরাকলে কাজ করার সময় কান্নানের মাসিক আয় ছিল প্রায় ১ লাখ রুপি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ তার সামনে ছিল তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একটি স্থিতিশীল ও ভালো বেতনের ক্যারিয়ার। কিন্তু গতানুগতিক সেই পথ তাকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি।
কান্না মনে করেছিলেন, নিজের হাতে এমন কিছু তৈরি করা দরকার, যেটি বাস্তব অর্থেই নিজের হবে। তাই ওরাকলের চাকরি ছেড়ে নিজের শহর তামিলনাড়ুর কারুরে ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
তার ব্যবসার ভাবনার কেন্দ্রে ছিল জনপ্রিয় ভারতীয় ডেজার্ট ফালুদা। তবে প্রচলিত ফালুদাকে শুধু বিক্রি করার বদলে সেটিকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন কান্নান। দ্য ফালুদা শপের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তার লক্ষ্য ছিল ফালুদাকে একটি ‘আধুনিক, প্রিমিয়াম ও ফ্র্যাঞ্চাইজি-উপযোগী’ ধারণায় রূপ দেওয়া।
বিজ্ঞাপন
এই ভাবনা থেকেই কারুরে মাত্র ১০×১০ ফুটের একটি কিয়স্ক দিয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ব্যবসা শুরুর সময় ছিল না কোনো বড় ঘোষণা, জমকালো উদ্বোধন কিংবা চোখধাঁধানো প্রচারণা।
শুরুতে প্রচারের ঘাটতি থাকলেও খুব দ্রুত সাড়া পেতে শুরু করে দ্য ফালুদা শপ। কারুরের সেই একটি আউটলেট থেকে ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়ে ব্র্যান্ডটির স্টোর সংখ্যা দাঁড়ায় আরও ১৭টিতে। এসব আউটলেটের মধ্যে দুবাইয়ের একটি স্টোরও রয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলেই বাড়ছে ব্যবসা
দ্য ফালুদা শপ মূলত ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে পরিচালিত হচ্ছে। এই মডেলে ব্র্যান্ডটির পক্ষ থেকে কর্মী ব্যবস্থাপনা, কাঁচামাল সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণের মতো বিষয়ে সহায়তা দেওয়া হয়। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি নিতে উদ্যোক্তাদের নির্দিষ্ট অগ্রিম ফি দিতে হয়।
অর্থাৎ কারুরের ছোট ১০×১০ ফুটের কিয়স্ক থেকে শুরু হওয়া উদ্যোগটি শুধু নিজস্ব আউটলেট বাড়ানোর পথে এগোয়নি; বরং একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্র্যান্ড হিসেবেও বিস্তৃত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি প্রদীপ কান্নান জানিয়েছেন, দ্য ফালুদা শপ এবার উত্তর ভারতেও প্রথম স্টোর খুলতে যাচ্ছে। নতুন আউটলেটটি হবে গুরুগ্রামে।
এই সম্প্রসারণকে নিজের স্বপ্ন কতটা দূর এগিয়েছে, তার একটি স্মারক হিসেবে দেখছেন কান্নান। নতুন স্টোরের ঘোষণা দিয়ে তিনি এটিকে ‘স্বপ্নটি কত দূর ভ্রমণ করেছে, তার একটি স্মারক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, এই সম্প্রসারণের বিষয়টি তিনি এখনো পুরোপুরি উপলব্ধি করে উঠতে পারছেন না এবং এখনো বিষয়টি হজম করার চেষ্টা করছেন।
মিলেনিয়াল ও জেন-জি প্রজন্মের জন্য নতুন ডেজার্ট
বিজ্ঞাপন
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ‘দ্য ফালুদা শপ’ শুধু প্রচলিত ফালুদার মধ্যেই নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি। মিলেনিয়াল ও জেন-জি প্রজন্মের ভোক্তাদের কথা মাথায় রেখে তাদের ডেজার্টের পরিসরও বাড়ানো হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে পানীয় হিসেবে খাওয়ার উপযোগী ফালুদা। পাশাপাশি রয়েছে ক্যানজাত প্রস্তুত-খাওয়ার উপযোগী ফালুদা, যা প্যাকেটজাত করে সহজে খাওয়ার উপযোগী করে বাজারে আনা হয়েছে।
একসময় যে ব্যক্তি উচ্চ বেতনের করপোরেট চাকরি করছিলেন, তিনিই সেই চাকরি ছেড়ে নিজের শহরে মাত্র ১০×১০ ফুটের একটি ছোট কিয়স্ক দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সেই ছোট উদ্যোগই বিস্তৃত হয়ে একাধিক আউটলেটের একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। এখন ভারতের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতেও রয়েছে এর উপস্থিতি এবং উত্তর ভারতে নতুন স্টোর চালুর প্রস্তুতিও চলছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এনডিটিভি








