Logo

পাকিস্তানের পর এবার সৌদির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা তুরস্কেরও

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৭
পাকিস্তানের পর এবার সৌদির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা তুরস্কেরও
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের চলমান তীব্র সংঘাতের মধ্যে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। এর আগে একই ধরনের সহায়তার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছিল পাকিস্তানও।

বিজ্ঞাপন

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, হুথিদের ধারাবাহিক হামলার কারণে সৌদি আরবের কিছু সামরিক প্রয়োজন তৈরি হয়ে থাকতে পারে। ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা বিবেচনা করবে আঙ্কারা। বিশেষ করে সামরিক ক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন হলে তুরস্ক তা পূরণে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তুর্কি সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন হাকান ফিদান। তিনি বলেন, সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধে টেনে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রিয়াদও এই সংঘাতে জড়াতে চায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লড়াই বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছে কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে এসব প্রস্তাবের বিস্তারিত তিনি প্রকাশ করেননি।

বিজ্ঞাপন

হুথি-সৌদি পাল্টাপাল্টি হামলা

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের মধ্যে হুথিরা তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা আরও বাড়িয়েছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকাও রয়েছে।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপরও হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত হয়েছে। ফলে ওই অঞ্চলের নৌপথ, জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা বেড়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে। অন্যদিকে হুথিরাও সৌদি ভূখণ্ডে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সৌদি আরবকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি পাকিস্তানেরও

বিজ্ঞাপন

সৌদি আরবের নিরাপত্তার বিষয়ে একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তানও।

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বৃহস্পতিবার আরব নিউজকে বলেন, সৌদি আরবকে ‘যে কোনো মাত্রায়’ রক্ষা করবে পাকিস্তান।

প্রয়োজনে সরাসরি সহায়তার কথাও বলেন তিনি। তবে সৌদি আরব অতিরিক্ত পাকিস্তানি সেনা চেয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় এখনই কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না।

তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনের সময় পাকিস্তান পদক্ষেপ নেবে।

সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা জোট

বিজ্ঞাপন

গত ৭ আগস্ট মক্কায় ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক।

চুক্তিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ স্বাক্ষর করেন।

গত ৩১ আগস্ট তিন দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যবস্থার নাম দেয় ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’। ইস্তাম্বুলে কর্মকর্তাদের বৈঠকে রিয়াদে একটি সচিবালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। প্রাথমিকভাবে এর মহাসচিব হিসেবে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

চুক্তির মূল নীতি হলো, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

জোটের কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন

ফিদান এর আগে বলেছিলেন, এই জোট অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অন্য দেশগুলোর জন্যও জোটের দরজা খোলা থাকবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তবে বিশ্লেষকেরা এখন পর্যন্ত এই প্রতিরক্ষা চুক্তির বাস্তব কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ন্যাটোর মতো সমন্বিত কমান্ড কাঠামো বা স্থায়ী বাহিনী এই জোটে নেই।

পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, সেটিও এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। বিশেষ করে কোনো সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে অন্য দুই দেশ কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে, তা পরিস্থিতি ও পারস্পরিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক হুথি-সৌদি সংঘাতের মধ্যে তুরস্ক ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের নিরাপত্তার বিষয়ে এমন অবস্থান সামনে আসায় মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের বাস্তব ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তুরস্কের পক্ষ থেকে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়নি; বরং সৌদি আরবের প্রয়োজন অনুযায়ী সামরিক ও কারিগরি সহায়তার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: আল-জাজিরা

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD