Logo

কাজীদের ক্ষমতা বাতিল, মুসলিম বিয়ে নিবন্ধন করবে আসাম সরকার

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:৫৪
কাজীদের ক্ষমতা বাতিল, মুসলিম বিয়ে নিবন্ধন করবে আসাম সরকার
ছবি: সংগৃহীত

আসামে মুসলিম বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় নতুন বিধিমালা অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার। এখন থেকে মুসলিম বিয়ে নিবন্ধনের দায়িত্ব পালন করবেন সরকার নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যারেজ রেজিস্ট্রাররা। এর মাধ্যমে কাজীদের মাধ্যমে বিয়ে নিবন্ধনের পুরোনো ব্যবস্থার পরিবর্তে অভিন্ন সরকারি কাঠামো কার্যকর হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আসাম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আসাম মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন (কমপালসরি) রুলস, ২০২৬’ অনুমোদন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, নতুন বিধিমালার মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে মুসলিম বিয়ে নিবন্ধনের জন্য একটি অভিন্ন প্রক্রিয়া চালু হবে।

হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, মুসলিম দম্পতিরা এখন ম্যারেজ রেজিস্ট্রারদের নির্ধারিত সরকারি কার্যালয়ে গিয়ে বিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী পঞ্চায়েত পর্যায়েও নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হতে পারে।

নতুন বিধিমালাটি ২০২৪ সালের ‘আসাম কমপালসরি রেজিস্ট্রেশন অব মুসলিম ম্যারেজেস অ্যান্ড ডিভোর্সেস অ্যাক্ট’-এর অধীনে প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই আইন আসাম বিধানসভায় পাস হওয়ার পর পুরোনো ১৯৩৫ সালের আইনটি প্রতিস্থাপিত হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের আইনে মুসলিম বিয়ে ও বিচ্ছেদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয় এবং সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে নিবন্ধনের বিধান রাখা হয়। নতুন বিধিমালা অনুমোদনের ফলে এতদিন যে বিষয়টি—ঠিক কোন সরকারি ব্যবস্থায় নিবন্ধন হবে—তা আরও স্পষ্ট হলো।

নতুন আইনের অধীনে বিয়ের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বয়সসীমা মানা বাধ্যতামূলক। পুরুষের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং নারীর ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। পুরোনো ব্যবস্থার মতো অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ নতুন আইনে রাখা হয়নি।

আইন অনুযায়ী বিয়ের ৩০ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের বিধান রয়েছে। একইভাবে বিচ্ছেদও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে। বিয়ে বা বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে জাল নথি ব্যবহার করলে শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আসামে মুসলিম বিয়ে নিবন্ধনের পুরোনো কাঠামো ছিল ১৯৩৫ সালের আইনের অধীনে। ওই ব্যবস্থায় কাজীদের মাধ্যমে মুসলিম বিয়ে ও বিচ্ছেদ নিবন্ধনের সুযোগ ছিল এবং নিবন্ধন বাধ্যতামূলক ছিল না। ২০২৪ সালের নতুন আইন সেই কাঠামো পরিবর্তন করে নিবন্ধনকে বাধ্যতামূলক করে এবং কাজীদের পরিবর্তে সরকারি ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যায়।

আসাম সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য হলো বিয়ে নিবন্ধনের প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল করা এবং বয়স যাচাইয়ের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনিক নজরদারি বাড়ানো। নতুন বিধিমালা অনুমোদনের ফলে মুসলিম বিয়ে নিবন্ধনের সরকারি প্রক্রিয়াটি এখন আরও নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আসছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, পিটিআই

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD