Logo

‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে’

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:৪৩
‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে’
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর ভাষ্য, তেহরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায় না এবং সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতেও প্রস্তুত।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ফক্স নিউজে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ানকে প্রশ্ন করা হয়, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অবসান হতে পারে কি না। জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনকেই নিতে হবে। রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

পেজেশকিয়ান বলেন, আলোচনার মাধ্যমে যখন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, তখন মানুষের একে অপরকে হত্যা করার পথে যাওয়া উচিত নয়। তাঁর দাবি, ইসরায়েলের উসকানির কারণে এই যুদ্ধ ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরু করতে চায়নি এবং সংঘাত অব্যাহত রাখারও ইচ্ছা নেই। তবে যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

একই সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান জানান, সংঘাতের অবসানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরান প্রস্তুত। তিনি জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতার কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন, ওই কাঠামোর ভিত্তিতে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইরানের আগ্রহ এখনো রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এর আগে বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইরান ওয়াশিংটনের কাছে নতজানু হবে না। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি তিনি।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালী নিয়েও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলছে। এর আগে ইরান জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমানো এবং ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে কৌশলগত এই নৌপথ পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তারা প্রস্তুত।

চলমান সংঘাত শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে যৌথ হামলার পর। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালায়। সংঘাতের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ে।

পেজেশকিয়ান তাঁর সাক্ষাৎকারে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন। তিনি পরমাণু অস্ত্র তৈরির ইচ্ছা অস্বীকার করে জানান, আন্তর্জাতিক যাচাইয়ের আওতায় ইরানের কর্মসূচি আনার বিষয়ে তেহরান আলোচনা করতে প্রস্তুত।

বিজ্ঞাপন

এখন যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের অবসানে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি এখনো হয়নি।

সূত্র: রয়টার্স, ফক্স নিউজ

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD