Logo

নেতানিয়াহুর বক্তব্য ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ, হলিউড তারকাসহ গ্রেপ্তার শতাধিক

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:৩১
নেতানিয়াহুর বক্তব্য ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ, হলিউড তারকাসহ গ্রেপ্তার শতাধিক
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে অভিনেতা, মানবাধিকারকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক প্রার্থীদের কয়েকজনকে পুলিশ আটক করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটকের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রয়টার্স অন্তত ৩০ জনের আটকের কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে কিছু প্রতিবেদনে সংখ্যা প্রায় ১০০ বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভকারীদের অনেকের পরনে ছিল একই ধরনের সাদা টি-শার্ট। সেখানে ‘বোমা নয়, মানুষের পেছনে অর্থ ব্যয় করুন’, ‘যুদ্ধ নয়’ ও ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল। তারা গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে স্লোগান দেন এবং একপর্যায়ে সড়কে বসে অবস্থান নেন। এতে জাতিসংঘমুখী যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পুলিশ মাইকযোগে তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও অনেকে অবস্থান চালিয়ে গেলে কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

বিক্ষোভে ইহুদি, ফিলিস্তিনি, ইরানি ও লেবানিজ বংশোদ্ভূত নিউইয়র্কবাসীরাও অংশ নেন। কর্মসূচিটির আয়োজন করে ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার সমালোচনা করা হয় এবং যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানানো হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুজান সারান্ডন, অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডার, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসে এবং ডেমোক্রেটিক কংগ্রেস প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শ্যভালিয়ের ছিলেন। সারান্ডন ও আইনবাইন্ডারের আটকের বিষয়টি রয়টার্স ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আগে আইনবাইন্ডার বলেন, একজন ইহুদি, আমেরিকান ও মানুষ হিসেবে এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়াকে তিনি নিজের নৈতিক দায়িত্ব মনে করেন। তিনি গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধের দাবিও জানান।

এদিকে, ব্রায়ান্ট পার্কসহ নিউইয়র্কের অন্যান্য স্থানেও ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশ ও মিছিল হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এর আগের দিন জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য অস্ত্র পরিবহনের অভিযোগে বিক্ষোভ হয়।

নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভেতরেও প্রতিবাদ দেখা যায়। তিনি বক্তব্য শুরু করার পর বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন প্রতিনিধি অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু তার ভাষণে গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমালোচনার জবাব দেন।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনায় নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির অবস্থান নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। মামদানি আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছিলেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতির কথা বলেছিলেন। তবে চলতি বছরের শুরুতে তিনি স্বীকার করেন, নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের এককভাবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আইনি ক্ষমতা নেই। তিনি ফেডারেল সরকারের পদক্ষেপের কথা বলেছিলেন।

বৃহস্পতিবারের আটকের বিষয়ে মেয়রের দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে মামদানি এর আগে বলেছেন, নিউইয়র্কবাসীর সাংবিধানিকভাবে বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে এবং তার প্রশাসন সেই অধিকারকে সম্মান করে।

সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, এপি

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD