নর’ইস্টারে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, নিউইয়র্ক-নিউজার্সিতে জরুরি অবস্থা

উত্তর আটলান্টিক থেকে সৃষ্টি হওয়া শক্তিশালী নর’ইস্টারের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে ভারী বৃষ্টি, ঝোড়ো বাতাস ও বন্যা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চার অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট ও পেনসিলভেনিয়ায় জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে উত্তর আটলান্টিক অঞ্চল থেকে তৈরি হওয়া এ ধরনের শক্তিশালী উপকূলীয় ঝড়কে ‘নর’ইস্টার’ বলা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার ঝড়টি উপকূলে আঘাত হানার পর রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে উত্তরে মেইন পর্যন্ত পূর্ব উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এর প্রভাব পড়েছে। মোট ১৪টি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের প্রভাব অনুভূত হলেও নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট ও পেনসিলভেনিয়ায় পরিস্থিতি বেশি নাজুক।
ঝড়ের কারণে চার অঙ্গরাজ্যে এরই মধ্যে ১ লাখ ১৯ হাজারের বেশি বাড়ি ও বাণিজ্যিক স্থাপনা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রতিটি রাজ্যেই ২৫ হাজারের বেশি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন রয়েছে বলে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সূত্র জানিয়েছে।
দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে আকাশপথেও। ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে পূর্ব উপকূলের ১৪টি অঙ্গরাজ্যে ১ হাজার ১৯৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া আরও প্রায় ২ হাজার ৪০০টি ফ্লাইটের নির্ধারিত সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা নেই। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত মধ্য-আটলান্টিক ও নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে নর’ইস্টারের প্রভাবে উপকূলীয় বন্যা, ভারী বৃষ্টিপাত, তীব্র দমকা বাতাস এবং বিপজ্জনক ‘রিপ কারেন্ট’ অব্যাহত থাকতে পারে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং নিউজার্সির গভর্নর মিকি শেরিল শনিবার নিজ নিজ অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। কানেকটিকাটে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়নি। তবে সেখানকার জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র সক্রিয় করেছেন গভর্নর নেড ল্যামন্ট।
ঝড়ের মধ্যে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন নিউজার্সির গভর্নর মিকি শেরিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, “আমি নিউ জার্সির সব বাসিন্দাদের এই ঝড়কে হেলাফেলা না করার আহ্বান জানাচ্ছি, সবাই সচেতন থাকবেন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলবেন।”
বিজ্ঞাপন
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি নগরবাসীকে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এক ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, “দুর্যোগের সময় খুব বেশি প্রয়োজন না হলে বাড়ির বাইরে বের হবেন না এবং অবশ্যই বন্যার পানিতে গাড়ি চালাবেন না।”
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়ের প্রভাব পুরোপুরি কমতে আরও সময় লাগতে পারে। ফলে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।








