ব্যাংককে চার দিনেও কমেনি বন্যার পানি, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে শুরু হওয়া বন্যা চতুর্থ দিনেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। নগর কর্তৃপক্ষ ব্যাংকক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (বিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও এর ক্ষয়ক্ষতির কারণে প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার পরিবারের ৭ লাখ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
বিজ্ঞাপন
রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংককের ডেপুটি সিটি মেয়র তাভিড়া কামোলভেজ এ তথ্য জানান।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে ব্যাংককে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়। পরদিন শুক্রবার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি অবনতির পর শনিবার ব্যাংকক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পক্ষ থেকে রাজধানীর ৫০টি জেলার সবগুলোতেই বন্যাজনিত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।
রোববারের ব্রিফিংয়ে তাভিড়া কামোলভেজ জানান, রাজধানীর জেলাগুলোর মধ্যে লাত ক্রাবাংয়ে বন্যার প্রভাব সবচেয়ে বেশি। সেখানে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। এ ছাড়া বাঙখাপি, খান্নায়ো, লাকসি, সাফান সুং ও সুয়ান লুয়াংসহ আরও কয়েকটি এলাকায় হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
বন্যার কারণে গত কয়েক দিনে বিভিন্ন এলাকা থেকে শয্যাশায়ী রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন স্বজনেরা। ব্যাংককের অন্যতম বড় হাসপাতাল বিএমএতে গত তিন দিনে ১ হাজার ৫০০ শয্যাশায়ী রোগীকে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এসব রোগী ও বন্যাকবলিত মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে পানি ও শুকনো খাবারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে মোবাইল কিচেন এবং পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধারে ছোট রাবারের নৌকার প্রয়োজনের কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ডেপুটি মেয়র তাভিড়া বলেন, “আমাদের এই মুহূর্তে কয়েক লাখ সুপেয় পানির বোতল প্রয়োজন। ত্রাণ শিবিরগুলোতে মোবাইল কিচেন, পানিবন্দি লোকজনকে উদ্ধারের জন্য ছোট আকারের রাবারের ডিঙ্গি নৌকাও দরকার।”
বিজ্ঞাপন
এদিকে পানি দ্রুত সরাতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ। ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ত সিত্তিপান্ত এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পানি নিষ্কাশনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। খালগুলোর পানির স্তর কমতে শুরু করলে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকেও ধীরে ধীরে বন্যার পানি নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গভর্নর বলেন, “ঘন বসতিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামবে, কারণ আগে খালগুলোর পানির স্তর কমতে হবে। পানি নিষ্কাশনের গতি বাড়াতে নিচু এলাকার বসতিগুলোতে পাম্প বসানো হবে।”
সোমবার সকালেও ব্যাংককের বেশ কিছু সড়ক পানির নিচে ছিল। পূর্ব ব্যাংককের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সায়েন সায়েপ ও প্রাওয়েত বুরিরাম খালের পানির স্তর কমাতে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পানি সরানোর কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি গভর্নর উইসানু সাবসমপন।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, “মূল কৌশল হলো সায়েন সায়েপ ও প্রাওয়েত বুরিরাম খাল থেকে যত দ্রুত সম্ভব পানি নিষ্কাশন করা; এতে এগুলোর সাথে সংযুক্ত ছোট খালগুলোর পানির স্তরও কমে আসবে।”
রামখামহেং রোডের শুরুর অংশে সোমবার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কথা জানিয়ে উইসানু বলেন, খলং চান এলাকায় পানি কমতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে। প্রধান খালগুলো থেকে কার্যকরভাবে পানি সরাতে প্রায় তিন দিন সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।
তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত লাত ক্রাবাং এলাকা থেকে পানি সরাতে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। উইসানু ব্যাংকক পোস্টকে বলেন, “উপচে পড়া খাল থেকে বসতিপূর্ণ এলাকার পানি নিষ্কাশন করাটা খুব একটা সহজ হবে না। গভীরভাবে প্লাবিত লাত ক্রাবং এলাকা থেকে পানি নিষ্কাশন করতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগবে।”








