ভারতের উত্তরপ্রদেশে টানা বৃষ্টি-বন্যায় ৩ দিনে ৬২ জনের মৃত্যু

টানা বৃষ্টি ও এর ফলে সৃষ্ট বন্যায় ভারতের উত্তরপ্রদেশে তিন দিনে অন্তত ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ সময়ে আহত হয়েছেন আরও ৪৬ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১ হাজার ২১টি বাড়ি।
বিজ্ঞাপন
রাজ্যের সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে সীতাপুর, লখিমপুর খেরি, বহরাইচ, বলরামপুর, অযোধ্যা ও গোরক্ষপুরে।
ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের ৭৫ জেলার মধ্যে ৬৩টিতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত আটটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
লখনউয়ের আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী অতুল কুমার সিং জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া আবহাওয়া ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় সোমবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কমতে পারে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজ্যের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
বিজ্ঞাপন
দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে সোমবার থেকে রাজধানী লখনউসহ বিভিন্ন এলাকায় স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়ার কার্যক্রমও শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে টানা বৃষ্টিতে ঘাঘরা ও রাপ্তী নদীর পানি বাড়ছে। এতে নদী দুটির আশপাশের নিচু এলাকাগুলোতে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রোববার থেকেই বারাবঁকীর এলগিনব্রিজ এলাকায় ঘাঘরা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের জলমগ্ন এলাকায় অপ্রয়োজনে চলাচল না করতে এবং নদী, খাল ও ড্রেনের মতো প্রবল স্রোতের স্থান থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
বিজ্ঞাপন
উত্তরপ্রদেশ সরকার জানিয়েছে, দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যা ও বৃষ্টির কারণে নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
এদিকে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ওড়িশাতেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে ৭৫ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
সূত্র: দ্য হিন্দু, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস








