তেল উত্তোলন বন্ধে যুক্তরাজ্যকে আর্জেন্টিনার আলটিমেটাম

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে ‘সি লায়ন’ তেল প্রকল্প নিয়ে আবারও বিরোধে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্য। প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ করতে যুক্তরাজ্যকে দুই সপ্তাহের সময় দিয়েছে আর্জেন্টিনা। সময়ের মধ্যে কাজ বন্ধ না হলে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই যুক্তরাজ্যকে এই সময়সীমা দেন। একই সঙ্গে প্রকল্পটি বন্ধে জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের (UNCLOS) আওতায় আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে হামবুর্গভিত্তিক আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক ট্রাইব্যুনালে (ITLOS) প্রকল্পটি সাময়িকভাবে বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চাওয়া হবে।
‘সি লায়ন’ প্রকল্পটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের উত্তরে অবস্থিত নর্থ ফকল্যান্ড বেসিনে পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটির সঙ্গে ইসরায়েলের নাভিতাস পেট্রোলিয়াম ও যুক্তরাজ্যের রকহপার এক্সপ্লোরেশন যুক্ত রয়েছে। কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ড কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নিয়েই তারা কাজ করছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
আর্জেন্টিনা অবশ্য এই কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। মাইলেই সরকারের দাবি, ফকল্যান্ড ও আশপাশের সামুদ্রিক এলাকায় একতরফাভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে আর্জেন্টিনার দাবিকৃত সার্বভৌম অধিকারের ক্ষতি হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব। আর্জেন্টিনা দ্বীপগুলোকে ‘মালভিনাস’ নামে অভিহিত করে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য দ্বীপগুলো নিয়ন্ত্রণ করে এবং সেখানকার বাসিন্দাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে।
১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। চার দশকের বেশি সময় পরও দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক তেল প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ আবারও আন্তর্জাতিক আইনি ও কূটনৈতিক পর্যায়ে জোরালো হয়েছে।








