মাঝআকাশে পাইলটদের সংঘর্ষ, ইসরায়েলের ফ্লাইট স্থগিত করল ফ্লাইদুবাই

মাঝআকাশে ককপিটের ভেতরে দুই পাইলটের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে দুবাইভিত্তিক বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাই। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ‘এফজেড১০৭৩’ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফ্লাইদুবাইয়ের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, বুধবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এবং তদন্ত চলাকালে ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল থেকে পরিচালিত সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাত্রী, ক্রু এবং উড়োজাহাজের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ার পর ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে। আকস্মিকভাবে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের যে অসুবিধা হয়েছে, সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দ্রুত বিকল্প ভ্রমণের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ঘটনার দিন সকালে ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে বোয়িং উড়োজাহাজটি যাত্রা করে। আকাশে থাকা অবস্থায় ককপিটে ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসারের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে অন্য ক্রুরা ফ্লাইট ডেকের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং উড়োজাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুলআজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান।
বিমানবন্দর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার দুজনই আহত হন। অবতরণের পর তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে উড়োজাহাজে থাকা অন্য যাত্রী ও কেবিন ক্রুরা নিরাপদ ছিলেন।
সৌদি আরবের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি সেন্টার জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে তাদের বিশেষজ্ঞ দল আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। উড়োজাহাজ চলাচলের নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না এবং মাঝআকাশে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের কারণ কী ছিল, তা জানতে আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে তাবুক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি অবতরণের পর যাত্রীদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। পরে ফ্লাইদুবাই একটি বিকল্প উড়োজাহাজ পাঠায় এবং যাত্রীরা সেখান থেকে তাদের গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।








