বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেবে আর্জেন্টিনা

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও দেশের আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী করতে নতুন ‘সিটিজেনশিপ বাই ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’ চালু করতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। এ কর্মসূচির আওতায় কমপক্ষে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ বা অনুদানের বিনিময়ে দেশটির নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন বিদেশিরা। আবেদন গ্রহণ শুরু হবে ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে।
বিজ্ঞাপন
প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সরকারের ঘোষিত কর্মসূচিতে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য দুটি পদ্ধতি রাখা হয়েছে। প্রথমটিতে জাতীয় কোষাগারে ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার ফেরতযোগ্য নয়—এমন সরাসরি অর্থ দিতে হবে। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে কর্মসূচির জন্য বিশেষভাবে তৈরি ৮ লাখ ডলারের সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে হবে।
আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানরাও নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে এই কর্মসূচির আওতায় নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী অবিবাহিত ও সন্তানহীন সন্তান এবং স্বামী বা স্ত্রীর জন্য ১ লাখ ডলার করে দিতে হবে। ১৮ বছরের কম বয়সী সন্তানের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে ২৫ হাজার ডলার।
আর্জেন্টিনা সরকার জানিয়েছে, কর্মসূচির মাধ্যমে পাওয়া অর্থ দেশটির রাজস্ব ও আর্থিক সক্ষমতা জোরদারে ব্যবহার করা হবে। বিনিয়োগকারীদের অর্থের উৎস যাচাই, অর্থপাচার প্রতিরোধ, সন্ত্রাসে অর্থায়ন ঠেকানো এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্যারিসে আয়োজিত ‘আর্জেন্টিনা উইক’ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী লুইস কাপিতো কর্মসূচিটির ঘোষণা দেন। সরকারের বৃহত্তর অর্থনৈতিক নীতির অংশ হিসেবে বিদেশি মূলধন আকর্ষণ, ডলার রিজার্ভ বাড়ানো এবং বিনিয়োগ পরিবেশ আরও উন্মুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনার অবস্থান নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটি প্রায় ৩ দশমিক ১৩৪ বিলিয়ন ডলার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে। একই সময়ে ব্রাজিল পেয়েছে ৭৬ দশমিক ৮৭৭ বিলিয়ন এবং মেক্সিকো ৪০ দশমিক ৮৭১ বিলিয়ন ডলার। এসব তথ্যের ভিত্তিতে আর্জেন্টিনা প্রধান লাতিন আমেরিকান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল।
মিলেই সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সরকারি ব্যয় কমানো, অর্থনীতির বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা এবং বিনিয়োগের বাধা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নাগরিকত্ব কর্মসূচিও সেই বিনিয়োগ আকর্ষণ কৌশলের সঙ্গে যুক্ত।
বিজ্ঞাপন
তবে কর্মসূচি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, কঠোর যাচাই নিশ্চিত করা না গেলে সন্দেহজনক অর্থের মালিক ব্যক্তিরাও এর সুযোগ নিতে পারেন। সরকার অবশ্য আবেদনকারীদের আর্থিক ও নিরাপত্তাগত যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে।
‘গোল্ডেন পাসপোর্ট’ হিসেবে আলোচিত এই কর্মসূচি চলতি বছরের শেষ দিকে কার্যকর হওয়ার কথা। আর্জেন্টিনা সরকারের আশা, এর মাধ্যমে নতুন বিদেশি মূলধন দেশে প্রবেশ করবে এবং অর্থনীতির আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।








