এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে রহস্য,গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য!

কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর ময়নাতদন্তের নথি পর্যালোচনা করা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ মাইকেল ফ্রিম্যানের গবেষণায় এমন কিছু বিষয় উঠে এসেছে, যা ২০১৯ সালে দেওয়া আত্মহত্যার সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। নতুন করে এমন দাবি জানিয়েছেন এপস্টেইনের ভাই মার্ক এপস্টেইন।
বিজ্ঞাপন
তিনি শুক্রবার (২ অক্টোবর) সিবিএস নিউজকে জানান, ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মাইকেল ফ্রিম্যান তাঁর ভাইয়ের ময়নাতদন্তের নথি বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যালোচনা করেছেন। আগামী ১৬ নভেম্বর ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপনের কথা রয়েছে ফ্রিম্যানের।
ফ্রিম্যানের পর্যালোচনায় এপস্টেইনের মৃত্যুর তদন্তে কয়েকটি বিষয়কে অস্বাভাবিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাস্থলে এপস্টেইনের মরদেহের কোনো ছবি না থাকা এবং ফাঁস দিতে ব্যবহৃত উপকরণ সংরক্ষণ বা পরীক্ষা না করার বিষয়টি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এপস্টেইনের ক্ষেত্রে বিছানার চাদর ব্যবহার করা হয়েছিল।
এ ছাড়া ফ্রিম্যান ফাঁসের দাগের একটি জৈব-যান্ত্রিক বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি এমন কিছু ছবিও পর্যালোচনা করেছেন, যেখানে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ব্যাখ্যা করা হয়নি—এমন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে এসব পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেননি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ফ্রিম্যান জানিয়েছেন, তাঁর উপস্থাপনায় এপস্টেইনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে আত্মহত্যা ও হত্যাকাণ্ড—দুই সম্ভাবনার পক্ষে থাকা প্রমাণের ওজন তুলে ধরা হবে। অর্থাৎ গবেষণাটি প্রকাশের আগে এপস্টেইনের মৃত্যু হত্যাকাণ্ড ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
মার্ক এপস্টেইন বলেন, নতুন এই বিশ্লেষণ তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় আরও গভীর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁর বিশ্বাসকে শক্তিশালী করেছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, গবেষণাটি তাঁর অনুরোধে করা হয়নি; গবেষকরা নিজেদের উদ্যোগেই এ পর্যালোচনা করেছেন।
বিজ্ঞাপন
২০১৯ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের কারাগারে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় জেফরি এপস্টেইনকে। সে সময় অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন পাচারের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা চলছিল। নিউইয়র্ক সিটি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় পরে তাঁর মৃত্যুকে ফাঁসিতে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করে।
তবে এপস্টেইনের মৃত্যুর পর থেকেই তদন্তের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর আগে তাঁর ভাইয়ের নিয়োগ করা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ মাইকেল ব্যাডেনও ময়নাতদন্তের কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। একই সঙ্গে কারাগারের নজরদারি ও প্রমাণ সংরক্ষণ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, এপস্টেইন-সংক্রান্ত বিপুল তদন্ত নথি প্রকাশের প্রক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যু নিয়ে জনস্বার্থ ও আন্তর্জাতিক আগ্রহ আবারও বেড়েছে। তবে মাইকেল ফ্রিম্যানের গবেষণার পূর্ণ ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এপস্টেইনের মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—সে বিষয়ে নতুন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
বিজ্ঞাপন








