Logo

ইরানের পরমাণু স্থাপনাকে ‘মাদক কারখানা’ বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:৫৬
ইরানের পরমাণু স্থাপনাকে ‘মাদক কারখানা’ বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে সেগুলোকে ‘মাদক কারখানা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ওকলাহোমার ডুরান্টে এক সমাবেশে ২০২৫ সালের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বোমারু বিমানগুলো গভীর রাতে ইরানের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে বোমা ফেলেছিল। এ সময় তিনি হঠাৎ এসব স্থাপনাকে ‘ড্রাগ ফ্যাক্টরি’ বা মাদক কারখানা হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে নিজের বক্তব্য সংশোধন না করে আরও কয়েকবার ‘মাদক ও পারমাণবিক কারখানা’ বলে একই প্রসঙ্গ টানেন।

২০২৫ সালের জুনে পরিচালিত ওই অভিযানে ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ও পরে ট্রাম্প মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই হামলার কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন। নতুন বক্তব্যে মাদক উৎপাদনের বিষয়টি প্রথমবারের মতো সামনে আসে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘মাদক কারখানা’ বলার ব্যাখ্যা কী?

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্প কেন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে মাদক কারখানা বললেন, তার কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউসের কাছেও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে বক্তব্যের ধারাবাহিকতা থেকে একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার কথা বলার ঠিক আগে ট্রাম্প ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবৈধ মাদক পাচারবিরোধী মার্কিন অভিযান নিয়ে কথা বলছিলেন। এরপরই তিনি ইরানের ওপর হামলার প্রসঙ্গে যান। ফলে আগের প্রসঙ্গে ব্যবহৃত ‘ড্রাগ’ শব্দটি পরের বক্তব্যে ভুলক্রমে চলে আসতে পারে—এমন ধারণা করা হচ্ছে। এটি অবশ্য একটি বিশ্লেষণ; ট্রাম্প বা তার প্রশাসন এমন ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে দেয়নি।

বিশেষজ্ঞের বক্তব্য কী?

বিজ্ঞাপন

কার্নেগি এনডাওমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের নিউক্লিয়ার পলিসি প্রোগ্রামের সহপরিচালক জেমস অ্যাক্টন বলেন, ইরানের ফোরদো স্থাপনায় মাদক উৎপাদন করা হতো—এমন কোনো অভিযোগ তার জানা নেই। তিনি জানান, ফোরদোকে মাদক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য কোনো তথ্যও তিনি আগে শোনেননি।

অ্যাক্টন আরও বলেন, ইরান পারমাণবিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল’ বা তেজস্ক্রিয় ওষুধ তৈরির সম্ভাবনার কথা অতীতে উল্লেখ করেছে। এসব পদার্থ রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। তবে ফোরদোর ক্ষেত্রে সেই ব্যাখ্যাও প্রযোজ্য নয়, কারণ এটি মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র; সেখানে কোনো পারমাণবিক চুল্লি নেই।

ট্রাম্পের দাবির পক্ষে প্রমাণ নেই

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে ইরানের স্থাপনাগুলোতে কী ধরনের মাদক উৎপাদন করা হতো বা এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। অন্যদিকে প্রকাশ্য সরকারি তথ্য ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানকে পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবেই বর্ণনা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

•

বিজ্ঞাপন

•

ফলে ‘মাদক কারখানা’ মন্তব্যের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো গোয়েন্দা তথ্য, নতুন অভিযোগ কিংবা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত মন্তব্যটি ভুলবশত বলা হয়েছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো তথ্য রয়েছে—সেটিও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD