এবার সাধারণ মানুষকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করল ইরান

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে ইরান। ‘জানফিদা’ বা ‘জানফাদা’ কর্মসূচির আওতায় রাজধানী তেহরানের তিনটি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে রোববার (৪ অক্টোবর) থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর চার শাখার সদস্যরা প্রশিক্ষণ পরিচালনা করবেন।
বিজ্ঞাপন
ইরানি বার্তাসংস্থা ওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সির (WANA) প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রশিক্ষণের শুরুতে স্বেচ্ছাসেবীদের মৌলিক সামরিক শিক্ষা দেওয়া হবে। পরে তাদের জন্য আরও উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। ইরানি সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিভাগের উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা আরিয়ান-নাজাদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
‘জানফাদা’ শব্দটির অর্থ জীবন উৎসর্গ করা বা আত্মত্যাগ করা। ইরানের কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সংকট বা জাতীয় প্রতিরক্ষার প্রয়োজন দেখা দিলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবীরা সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখবেন। কর্মসূচিটিকে এরই মধ্যে সামরিক ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে ইরান এক হাজার ‘জানফাদা’ জাতীয় প্রতিরোধ ব্যাটালিয়ন গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। এ কর্মসূচির সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও আধাসামরিক বাহিনী বাসিজের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তেহরানে বাসিজের তত্ত্বাবধানে জানফাদা প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করা হয়। সেখানে সামরিক প্রস্তুতি, স্থানীয় নিরাপত্তা, নজরদারি, উদ্ধারকাজ ও অস্ত্র ব্যবহারের মতো প্রশিক্ষণের কথা জানানো হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ইরানি কর্মকর্তারা কর্মসূচিটিকে জাতীয় প্রতিরক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতির জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত করার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে এ কর্মসূচিতে কতজন বাস্তবে অংশ নিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে এটি কতটা সংগঠিত সহায়ক সামরিক কাঠামোতে রূপ নেবে, তা নিয়ে স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। জানফাদা কর্মসূচিতে নিবন্ধনকারীর সংখ্যা নিয়ে ইরানি পক্ষের বড় দাবিগুলোও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
তেহরানে বেসামরিকদের জন্য সশস্ত্র প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালুর বিষয়টি সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের নাগরিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারের একটি নতুন ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।








