তেল-ডিজেলের দাম বাড়ছে কেন

বিশ্ববাজারে তেল ও ডিজেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যটির দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জি-৭ভুক্ত দেশগুলো।
বিজ্ঞাপন
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন বা ৩ দশমিক ৭৯ লিটার ডিজেলের গড় দাম বেড়ে ৬ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এক মাস আগে একই পরিমাণ ডিজেলের দাম ছিল ৫ দশমিক ৬১ ডলার।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তেল শিল্প ও বাজারবিষয়ক বিভাগের সাবেক প্রধান নিল অ্যাটকিনসনের মতে, বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ রয়েছে।
তিনি আল জাজিরাকে বলেন, প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে ডিজেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে ইউরোপে বিপুল পরিমাণ ডিজেল রপ্তানি হতো। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইউরোপের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
দ্বিতীয়ত, রাশিয়া ডিজেল রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছে। ইউক্রেনের হামলায় দেশটির কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাশিয়ার পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান অ্যাটকিনসন।
তৃতীয়ত, চীনও ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে সরবরাহ কমলেও ডিজেলের চাহিদা এখনো তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে কৃষিপণ্য কাটার মৌসুম চলায় ডিজেলের চাহিদা আরও কিছুদিন উচ্চ থাকতে পারে বলে মনে করছেন অ্যাটকিনসন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং একই সময়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার ফলে তৈরি হওয়া ভারসাম্যহীনতাই বর্তমানে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। এই পরিস্থিতিতে জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার উদ্যোগ বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে কতটা ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।








