বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স: গ্রেপ্তার ৫ হাজার, পুড়েছে ২৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ফ্রান্সে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। গত ১৮ দিনে বিশৃঙ্খলা, সরকারি সম্পদের ক্ষতি ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর অভিযোগে ৫ হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে ফরাসি পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
এই সময়ে রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন এলাকায় ২৪টি স্কুলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রোববার দেশজুড়ে প্রায় ৫০০ স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।
ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দো জেফ্রে জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে স্কুলগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মতো পরিবেশ নেই বলে মনে করছে সরকার।
তবে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেও বিক্ষোভের তীব্রতা কমেনি। শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন, সড়ক অবরোধ ও মিছিল অব্যাহত রেখেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ফ্রান্সে হাইস্কুল ও জুনিয়র স্কুলের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৭০০। আন্দোলন শুরুর পর প্রথম দিকে প্রায় ৪০০ স্কুল বন্ধ করেছিল সরকার। রোববার সেই তালিকায় আরও ৫০০ স্কুল যুক্ত হয়েছে।
যেভাবে শুরু হয় আন্দোলন
প্যারিসের একটি শহরতলির হাইস্কুলে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এই আন্দোলনের সূত্রপাত। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিজ্ঞাপন
পরে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার স্কুলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কারের দাবিতে শত শত শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এতে যুক্ত হন। একপর্যায়ে তা জাতীয় আন্দোলনে রূপ নেয়।
সহিংসতা ও গ্রেপ্তার
রোববার সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জেফ্রে জানান, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি আন্দোলন শুরুর পর অন্তত ১৭০ শিক্ষার্থী এবং ৭৮ শিক্ষক ও স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন। একই সময়ে ২৪টি স্কুলে অগ্নিসংযোগ বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বিজ্ঞাপন
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন নুনেজ পৃথক বিবৃতিতে জানান, গত এক সপ্তাহে ৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সরকার বিক্ষোভে বাইরের উসকানিদাতাদের দায়ী করেছে। এক রেডিও সাক্ষাৎকারে জেফ্রে দাবি করেন, উগ্র-বামপন্থী কর্মীরা ছাত্র আন্দোলনে অনুপ্রবেশ করে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং আন্দোলনকে সহিংসতা ও অরাজকতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
তবে সরকারবিরোধী সমালোচকেরা পরিস্থিতিটিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। পুলিশের পদক্ষেপকে তারা অতিরিক্ত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে সমালোচনা করেছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও তরুণ বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠস্বর দমন না করে তাদের কথা শোনার আহ্বান জানিয়েছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বিক্ষোভ কিছুটা কমলেও আয়োজকেরা মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) থেকে আবারও বড় আকারের কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার তাদের দাবির বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।








