মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ, জ্ঞান ফিরেছে বন্দী ক্রিস্টা পাইকের

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় প্রাণে বেঁচে যাওয়া বন্দী ক্রিস্টা পাইকের জ্ঞান ফিরেছে। তিনি এখন সচেতন এবং কথা বলতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৭ অক্টোবর) দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫০ বছর বয়সী পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর। প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য তাকে দুই দফায় পেন্টোবারবিটাল দেওয়া হয়। কিন্তু দুইবার ওষুধ প্রয়োগের পরও তার মৃত্যু হয়নি। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে জানান, পাইক বর্তমানে সচেতন এবং কথা বলছেন। তবে তার দুই হাতে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে। হাসপাতালের বিছানায় এখনও তাকে হাতকড়া ও শিকলে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা তার সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে নিশ্চিত নন। পুরোপুরি সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমবার ওষুধ দেওয়ার পর পাইক প্রায় এক ঘণ্টা শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন এবং ছটফট করছিলেন। পরে দ্বিতীয়বার ওষুধ দেওয়া হলেও তার মৃত্যু হয়নি। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পিভি ঘটনাটিকে ‘নিষ্ঠুর ও যন্ত্রণাদায়ক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, পাইকের বাম হাতে সাতটি পর্যন্ত সুচ ব্যবহার করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি সুচ বাঁকা অবস্থায় বের করা হয় বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেমিক তাদারিল শিপের সঙ্গে মিলে পাইক স্লেমারকে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন।
পাইক তার অপরাধে জড়িত থাকার কথা কখনো অস্বীকার করেননি। পরে তার বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার শনাক্ত হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে প্রায় ৩০ বছর তিনি কারাগারের ডেথ রো-তে ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর পাইকের আইনজীবীরা টেনেসির গভর্নরের কাছে তার সাজা কমিয়ে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।








