আমার নোবেল পাওয়া উচিত, কিন্তু তারা দেবে কিনা জানি না : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্বে বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত তাঁর। তবে নরওয়ের নোবেল কমিটি শেষ পর্যন্ত তাঁকে পুরস্কার দেবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ও প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৭ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রত্যাশা করছেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, আমার নোবেল পাওয়া উচিত। তবে আমি জানি না তাদের (নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি) সিদ্ধান্ত কী হবে। আমার মতো লোকজনকে পুরস্কার না দেওয়ার ব্যাপারে তাদের সুনাম রয়েছে।’
২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয়েছে ৫ অক্টোবর। চিকিৎসা, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে বিজয়ীদের নাম ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে শুক্রবার (৯ অক্টোবর)। এ বছর শান্তি পুরস্কারের জন্য ২৮৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকেই ট্রাম্প বিভিন্ন সময় দাবি করে আসছেন, শান্তিতে নোবেল পাওয়ার যোগ্য তিনি। এবারও তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর আটটি সংঘাত মোকাবিলায় নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্পের দাবি, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে তাঁর প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে এসব সংঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু পক্ষ ট্রাম্পের ভূমিকার মাত্রা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছে। পাশাপাশি ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তসহ কিছু এলাকায় আবারও সহিংসতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই যুদ্ধটি দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি ট্রাম্প প্রশাসন। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাতও অব্যাহত রয়েছে। এসব পরিস্থিতির কারণে ট্রাম্পের শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিও বিভিন্ন মহলে বিতর্কের মুখে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্পকে কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন বলে তিনি ও সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। তবে নোবেল কমিটি সাধারণত মনোনয়নকারীদের নাম প্রকাশ করে না; মনোনয়ন-সংক্রান্ত নথি ৫০ বছর গোপন রাখা হয়। ফলে এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়।
গত বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনীতিক মারিয়া কোরিনা মাচাদো। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি তাঁর নোবেল পদক ট্রাম্পকে উপহার দেন। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সেই প্রসঙ্গও টেনে আনেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প বলেন, গতবারের নোবেলজয়ী যখন তাঁকে ইতিহাসের অন্য কারও চেয়ে এই পুরস্কারের বেশি যোগ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন, তখন বিষয়টিকে তিনি ‘পরোক্ষভাবে’ নোবেল পাওয়ার মতো সম্মান হিসেবে দেখেছেন।
বিজ্ঞাপন
এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ট্রাম্প ছাড়াও পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে পুরস্কার ঘোষণার আগে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে যেকোনো পূর্বাভাসই অনিশ্চিত।








