ইউক্রেনের যাত্রীবাহী বাসে রাশিয়ার বোমা হামলা, ৩৩ জন নিহত

ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলের দোনেৎস্কের ক্রামাতোর্সকে দুটি যাত্রীবাহী বাসে রুশ বাহিনীর হামলায় ৩৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৮ জন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উদ্ধারকারী সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দোনেৎস্কের আঞ্চলিক প্রধান ভাদইয়াম ফিলাসকিন অভিযোগ করেছেন, রুশ বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে যাত্রীবাহী বাস লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, হামলার উদ্দেশ্য ছিল যত বেশি সম্ভব বেসামরিক মানুষকে হতাহত করা।
স্থানীয় প্রসিকিউটরদের প্রকাশিত ছবিতে হামলার পর বাস দুটিকে আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশেও হতাহতদের পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ক্রামাতোর্সক ও পাশের স্লোভিয়ানস্ক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর সামরিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে ইউক্রেনের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে রুশ হামলার ঘটনা বেড়েছে। এর মধ্যেই ক্রামাতোর্সকে যাত্রীবাহী দুটি বাসে হামলার ঘটনা ঘটল।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ২০২৬ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগস্টেই আগের বছরের পুরো সময়ের তুলনায় বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
বাস দুটিতে যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। তবে হামলার ঘটনায় রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
দনবাসে রুশ ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর বড় উপস্থিতি রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর সময় রাশিয়া দনবাসের জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিকে অভিযানের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিল। মস্কো ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে দনবাসের জনগণের ওপর নিপীড়নের অভিযোগও করে আসছে।
দনবাসের প্রধান দুই অঞ্চল হলো দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক। লুহানস্কের অধিকাংশ এলাকা রুশ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দোনেৎস্কের একটি অংশ এখনও ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অঞ্চলটির অবশিষ্ট অংশ দখলে নিতে রাশিয়া সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে।








