Logo

রাশিয়ার রাতভর হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ নিহত ২৮

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৪
রাশিয়ার রাতভর হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ নিহত ২৮
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকায় বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর থেকে এসব হামলা চালানো হয়।

বিজ্ঞাপন

চেরনিহিভের প্রিলুকি জেলার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ঘুমন্ত অবস্থায় প্রাণ হারায় পাঁচ শিশু। শক্তিশালী বিস্ফোরণে ভবনটির জানালার কাচ ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচতলা ভবনটির প্রায় অর্ধেক অংশ পরিণত হয় পুড়ে যাওয়া কংক্রিট ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া ধাতব কাঠামোর স্তূপে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল মাত্র ১২ মাস এবং আরেকজনের বয়স আট বছর। পরে সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রেসিডেন্টের দপ্তরের পৃথক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রিলুকির ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে রুশ হামলায় মোট ২০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে সাতজন শিশুও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক শহর ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, “ইউক্রেন তথা আমাদের জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের অব্যাহত ব্যবহার হলো সন্ত্রাস সৃষ্টির এক সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।”

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রিলুকির ৪০ বছর বয়সী নাগরিক ও ম্যাসাজ থেরাপিস্ট ওলেনা সায়ুন হামলার ভয়াবহতার বর্ণনা দিতে গিয়ে এএফপিকে বলেন, “আমরা বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলাম।বিস্ফোরণে আমাদের জানালার কাঁচ উড়ে যায়। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে, আমরা নিজেদের শরীর দিয়ে আমাদের শিশু সন্তানকে আগলে রেখেছিলাম। আমার স্বামীর পিঠে এবং আমার শরীরেও কিছু কাটাছেঁড়া হয়েছে।”

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, “(হামলার সময়) আমাদের সন্তানের প্রচণ্ড মানসিক আঘাত বা ‘নার্ভাস ব্রেকডাউন’ হয়েছিল এবং সে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। আমরা দ্রুত বাথরুমের দিকে ছুটে গিয়েছিলাম এবং অ্যাপার্টমেন্টের সবকিছু যখন তছনছ হয়ে যাচ্ছিল, সে সময় আমরা সেখানেই ছিলাম।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রিলুকিতে রুশ বাহিনীর হামলা শুরু হয়। এর একদিন আগে মঙ্গলবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রাশিয়ার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য একটি ‘ব্যাপক’ হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। ওই সতর্কবার্তায় বিশেষভাবে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

শীতকাল সামনে আসায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার মাত্রা বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রায় অবিরাম বেজে চলেছে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন।

বিজ্ঞাপন

হামলার আশঙ্কায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় ব্যাগ, শোয়ার মাদুর ও কম্বল নিয়ে রাত কাটাতে সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন। ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো প্ল্যাটফর্মে গাঢ় রঙের হুডি পরে ব্যাগপত্র নিয়ে বসে এএফপিকে বলেন, “আমরা আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে এখানে চলে এসেছি।”

তিনি বলেন, “পুরো কিয়েভ শহর এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আজ আমরা কর্মস্থলে আটকা পড়েছিলাম এবং সবাই—আমাদের গ্রুপের চ্যাট বা বসরা—আমাদের সতর্ক থাকার বার্তা পাঠাচ্ছিলেন।”

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার দেশটির দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৩০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।

বিজ্ঞাপন

চলমান সংঘাতের প্রায় পাঁচ বছরের সময়ে এটিকে অন্যতম ‘ঘৃণ্য হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জেলেনস্কি। তিনি জানান, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা ছিল ‘সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ’। একই সঙ্গে তিনি নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি বলে উল্লেখ করেন।

প্রিলুকিতে ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের কাছেই বসবাসকারী ৩১ বছর বয়সী অনলাইন মার্কেটিংকর্মী ইউলিয়া শামরাই হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “এই হামলার মধ্যে দিয়ে রাশিয়ার কোন সামরিক লক্ষ্য পূরণ হলো, আমি বুঝতে পারছি না।”

সূত্র : এএফপি

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD