অসুস্থ মেয়েকে হ্রদে ফেলে পালালেন মা, অতঃপর...

ভারতের হায়দরাবাদের হুসেন সাগর হ্রদে ছয় বছর বয়সী মেয়েকে ফেলে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে। তবে এক অটোরিকশাচালক, এক বেসরকারি চাকরিজীবী ও এক ব্যবসায়ীর তাৎক্ষণিক সাহসিকতায় প্রাণে বেঁচে গেছে শিশুটি। এ ঘটনায় সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে বুধবার (১৪ অক্টোবর) ওই তিনজনকে নগদ অর্থ দিয়ে পুরস্কৃত করেছে হায়দরাবাদ পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানায়, বোয়েনপল্লির বাসিন্দা ওই নারীর আট ও ছয় বছর বয়সী দুটি মেয়ে রয়েছে। ছোট মেয়ের দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা এবং চিকিৎসার বিপুল খরচে হতাশ হয়ে তিনি এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ঘটনার দিন দুই মেয়েকে নিয়ে হুসেন সাগর হ্রদের পাড়ে যান ওই নারী। একপর্যায়ে বড় মেয়েকে আইসক্রিম আনতে পাঠিয়ে সুযোগ বুঝে ছোট মেয়েকে পানিতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
হ্রদের পানিতে পড়ে শিশুটি একটি বাঁশের খুঁটি আঁকড়ে ধরে চিৎকার করতে থাকে। তার চিৎকার শুনে বালকৃষ্ণ নামে এক পথচারী আশপাশের লোকজনকে সতর্ক করেন। এরপর ফখরুদ্দিন নামের এক অটোরিকশাচালক গাড়ি থামিয়ে পানিতে ঝাঁপ দেন। মোহাম্মদ আফসার নামের এক ব্যবসায়ীর সহায়তায় শিশুটিকে নিরাপদে তীরে তুলে আনেন তাঁরা।
পরে টহলরত পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গান্ধী হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ওই মায়ের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে ডোমালগুদা থানার পুলিশ।
উদ্ধারকারী তিনজনের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনার সজ্জনার। তিনি বলেন, বিপদে মানুষকে সাহায্য না করে মোবাইল ফোনে ভিডিও করার প্রবণতা দেখা যায়—এমন সময়ে তাঁদের সাহসিকতা মানবতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এনডিটিভি








