দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ইরান যাচ্ছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাশিয়া ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর লক্ষ্য নিয়ে সোমবার ইরান সফরে যাচ্ছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। সফরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়েই ল্যাভরভের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চলমান দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সফরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে বৈঠক করবেন ল্যাভরভ। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, চুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোও তাঁর সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর দুই দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশ দুটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মস্কোতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ২০ বছর মেয়াদি সামগ্রিক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিতে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, জ্বালানি, বাণিজ্য ও পরিবহন খাতে সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে এতে এক দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশকে সামরিকভাবে রক্ষার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
এদিকে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা কয়েক মাস ধরে স্থবির রয়েছে। গত অক্টোবরের শুরুতে পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় অংশ নিতে প্রস্তুত মস্কো।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ল্যাভরভের এই সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আলোচনায় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলে সৃষ্ট আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনের উপায় গুরুত্ব পাবে। তাঁদের মতে, এই সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বিজ্ঞাপন
সংঘাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে ইরান। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট জ্বালানিপণ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। সংঘাতের মধ্যে জলপথটির নিরাপত্তা ও চলাচল নিয়ে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এ পরিস্থিতিতে রাশিয়া-ইরান বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।








