বিশ্বের প্রথম ক্যানসার ভ্যাকসিনের বড় সাফল্য

ত্বকের মারাত্মক ক্যানসার মেলানোমার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখিয়েছেন গবেষকেরা। রোগীর নিজস্ব ক্যানসার কোষের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তৈরি পরীক্ষামূলক টিকা ব্যবহারে অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার ফিরে আসা কিংবা মৃত্যুর সম্মিলিত ঝুঁকি ৪২ শতাংশ কমেছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অগ্রগতি ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যক্তিভিত্তিক টিকার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।
বিজ্ঞাপন
সাধারণত প্রচলিত টিকা কোনো রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যবহার করা হয়। তবে এই টিকাটি তৈরি করা হয়েছে ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা করার জন্য। রোগীর টিউমারের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে তাঁর জন্য আলাদাভাবে টিকা তৈরি করা হয়। এর লক্ষ্য হলো, শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষ শনাক্ত করতে এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিক্রিয়া গড়ে তুলতে সাহায্য করা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
গবেষণায় প্রায় ১ হাজার ১৩৭ জন রোগীর তথ্য ও পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, অস্ত্রোপচারের পর প্রচলিত ক্যানসারের ওষুধের পাশাপাশি ব্যক্তিভিত্তিক এই টিকা প্রয়োগ করলে রোগ পুনরায় ফিরে আসা কিংবা মৃত্যুর ঝুঁকি কমতে পারে। তবে এই ফলাফলকে সব ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় সমান কার্যকর বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এই টিকার বিশেষত্ব হলো, এটি সবার জন্য একইভাবে তৈরি করা হয় না। বরং রোগীর টিউমারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী টিকার উপাদান নির্ধারণ করা হয়। এর মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার কোষের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য চিনতে প্রশিক্ষিত করার চেষ্টা করা হয়। ফলে অস্ত্রোপচারের পর শরীরে থেকে যাওয়া ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
বিজ্ঞাপন
গবেষকেরা আশা করছেন, মেলানোমার চিকিৎসায় এই প্রযুক্তির অগ্রগতি ভবিষ্যতে অন্যান্য ক্যানসারের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে আরও গবেষণা, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল্যায়নের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যক্তিভিত্তিক টিকার এই অগ্রগতি রোগীদের জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও, এটি এখনই সব ধরনের ক্যানসারের স্বীকৃত বা প্রচলিত চিকিৎসার বিকল্প নয়।
সূত্র: নিউজ.কম.এইউ








