Logo

ভারতের অরুণাচলের ৬-৭ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনারা

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:৪৩
ভারতের অরুণাচলের ৬-৭ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনারা
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় চীনা সেনাদের অবস্থান ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সরকারি সূত্রের বরাতে ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, রাজ্যটির একটি এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরেখা হিসেবে বিবেচিত অবস্থান থেকে প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার ভেতরে প্রবেশ করে তাবু স্থাপন করেছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। এর জবাবে ওই এলাকায় অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ভারত।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, অরুণাচল সীমান্তের একাধিক স্থানে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর।

উচ্চপর্যায়ের সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ের শেষ দিকে অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং সার্কেলের আসাফিলা এলাকায় সীমান্ত উত্তেজনা শুরু হয়। সেখানে চীনা সেনারা অবস্থান নেওয়ার পর ভারতও নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের সভাপতিত্বে চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের অংশগ্রহণের বিষয়টি সামনে থাকার পাশাপাশি সীমান্ত সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলেছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গত আগস্টে ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন (ডব্লিউএমসিসি) বৈঠক এবং দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া সেপ্টেম্বরের শুরুতে অরুণাচলের বাচা-দামাই সীমান্ত পয়েন্টে প্রথমবারের মতো কোর কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠক হয়। তবে এসব উদ্যোগের পরও সীমান্তের অচলাবস্থা কাটেনি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, রাজস্থানের আলোয়ারে এক অনুষ্ঠানে আইটিবিপির বিদায়ী মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর সীমান্ত নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ও ড্রোনবিধ্বংসী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

কাপুরের মতে, চীনের মতো সামরিকভাবে আধুনিকায়ন করা বাহিনীর মোকাবিলায় কেবল পুরোনো কৌশলের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি ইউক্রেন ও ইরানের যুদ্ধে ড্রোন ব্যবহারের কৌশলের উদাহরণ তুলে ধরেন।

সীমান্তে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে আগামী তিন বছরের মধ্যে চীন সীমান্তের প্রতিটি অগ্রবর্তী সেনা চৌকিতে মাটির নিচে নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথাও জানান তিনি। আধুনিক যুদ্ধে মাটির ওপরের স্থাপনাগুলো সহজেই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। এ কারণে স্থায়ী ও সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ প্রতিরক্ষা কাঠামো নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

অরুণাচল সীমান্তে সেনাদের মুখোমুখি অবস্থান এবং প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারের এসব পদক্ষেপ ভারত-চীন সীমান্ত পরিস্থিতিকে আবারও আলোচনায় এনেছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: দ্য হিন্দু

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD