অনুমোদন দিল পার্লামেন্ট, সৌদিতে সামরিক সহায়তা পাঠাচ্ছে মিসর

হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদারে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে মিসরের পার্লামেন্ট। দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসির অনুরোধে সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাস হয়। তবে সৌদি আরবে ঠিক কী ধরনের সামরিক সহায়তা পাঠানো হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বিজ্ঞাপন
মিসরের পার্লামেন্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন চেয়ে প্রেসিডেন্ট সিসি আইনপ্রণেতাদের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। পরে সেই আবেদন বিল আকারে পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হলে অধিকাংশ সদস্য এর পক্ষে ভোট দেন।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবকে সহায়তার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সহায়তার আওতায় সেনা মোতায়েনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পার্লামেন্টে ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার আলোচনা শেষে বিলটির ওপর ভোটাভুটি হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় অনুমোদন পাওয়া এই প্রস্তাবের ফলে প্রেসিডেন্ট সিসি এখন সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশটির ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব ও পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
বিজ্ঞাপন
এ সময় আইনপ্রণেতারা আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং মিসর ও আরব বিশ্বের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতারা অংশ নেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পার্লামেন্টের এই অনুমোদন গত ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মিসরের জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে হুথি হামলা থেকে সৌদি আরবকে সুরক্ষিত রাখতে মিসর কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে পার্লামেন্টের বিবৃতিতে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এমনকি সৌদি ভূখণ্ডে মিসরীয় সেনা মোতায়েনের বিষয়টিও স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
এর আগে প্রেসিডেন্ট সিসির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পার্লামেন্টে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চলে। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত দুটি বৈঠকের পর ২৫ অক্টোবর স্পিকার হিশাম বাদাওয়ির সভাপতিত্বে তৃতীয় রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে আইনপ্রণেতারা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মিসরের এই অনুমোদন এলো। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং সৌদি আরবের ওপর হুথিদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যেই দেশটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে কায়রো।








