যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলিম ঐক্যের ডাক ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘আগ্রাসন’ মোকাবিলা এবং মধ্যপ্রাচ্যকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত তেহরান।
বিজ্ঞাপন
ইরানের রাজধানী তেহরানে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিনের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান।
বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। গাজা, লেবানন, ইরানসহ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানান তিনি।
পেজেশকিয়ানের বক্তব্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং ঐক্য সুদৃঢ় করা জরুরি। মধ্যপ্রাচ্যকে বিভক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে ইরান সমর্থন দিতে প্রস্তুত বলেও জানান পেজেশকিয়ান।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বৈঠকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। তবে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার রয়েছে বলে মনে করে তেহরান।
ইরানের এই অবস্থানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিরও সমালোচনা করেন তিনি। পেজেশকিয়ানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন একদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালায়, অন্যদিকে দেশটির ওপর এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এ ধরনের অবস্থানকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘পরস্পরবিরোধী নীতি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
বিজ্ঞাপন
পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
সূত্র: আল-জাজিরা








