ইসরায়েলে নির্বাচন: নেতানিয়াহুর অবস্থা নড়বড়ে, বিদায় নিশ্চিত!

ইসরায়েলের জাতীয় সংসদ নেসেটের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)। এই নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করছে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। বিরোধী জোটের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেলেও নির্বাচনে আসন কম পেলেই যে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে, এমন নয়।
বিজ্ঞাপন
ইসরায়েলের সংসদ নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। তবে দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোনো একটি দলের পক্ষে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা কঠিন। ফলে সাধারণত একাধিক দলকে নিয়ে জোট গঠন করেই সরকার পরিচালনা করতে হয়।
সর্বশেষ নির্বাচনেও নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। পরে উগ্রপন্থি দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করে ক্ষমতায় আসে তার দল।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার প্রকাশিত নির্বাচনী জরিপে নেতানিয়াহুর জোট ও প্রধান বিরোধী জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন প্রায় পাঁচ লাখ তরুণ ইসরায়েলি। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ হাজার ইসরায়েলি নাগরিক শুধু ভোট দেওয়ার জন্য দেশে ফিরছেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির কোনো দলই এককভাবে নেসেটের ৬১টি আসন পায়নি। তাই সরকার গঠনের ক্ষেত্রে জোটের সমীকরণ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোত। জরিপ অনুযায়ী, তার নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট নেতানিয়াহুর জোটের চেয়ে বেশি আসন পেতে পারে। তবে বেশি আসন পাওয়া আর সরকার গঠন করা এক বিষয় নয়।
আলজাজিরার প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক জরিপে বলা হয়েছে, আইজেনকোতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর উগ্রপন্থি জোট পেতে পারে ৫০টি আসন। এমন পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ছোট দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিজ্ঞাপন
নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলেও অন্যান্য ডানপন্থি ও উগ্রপন্থি দলের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে আবারও সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে। একইভাবে বিরোধী জোটও প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে পারলে ক্ষমতায় আসার সুযোগ পাবে।
নির্বাচনের ফল নির্ধারণে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয়েন্ট লিস্ট ও রা’ম নামের দুটি আরব রাজনৈতিক শক্তি এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন পেতে পারে। ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিক।
২০২১ সালে রা’ম তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন জোটকে সমর্থন দিয়ে সরকার গঠনে সহায়তা করেছিল। ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে সেটি ছিল একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা, কারণ প্রথমবারের মতো একটি আরব দল সরকার গঠনের জোটের অংশ হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
রা’মের নেতা মানসুর আব্বাস জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী জোটের অতিরিক্ত আসন বা সমর্থন প্রয়োজন হলে তিনি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
ফলে মঙ্গলবারের নির্বাচনে শুধু লিকুদ পার্টি বা বিরোধী জোটের আসনসংখ্যাই নয়, ছোট দলগুলোর অবস্থানও নির্ধারণ করতে পারে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে। নির্বাচনের পর জোট গঠনের আলোচনা তাই নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি








