Logo

পাকিস্তানে এলপিজির দাম আকাশছোঁয়া, প্রতি কেজির দাম ৭০০ রুপি

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১ নভেম্বর, ২০২৬, ২১:৩৯
পাকিস্তানে এলপিজির দাম আকাশছোঁয়া, প্রতি কেজির দাম ৭০০ রুপি
ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশজুড়ে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তাফতান সীমান্ত দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে এলপিজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কোথাও কোথাও প্রতি কেজি গ্যাসের মূল্য ৭০০ পাকিস্তানি রুপিতে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সরকার নির্ধারিত এলপিজির দামও কেজিপ্রতি ১৪ রুপি বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রতি কেজি গ্যাসের দাম ২৯৪ রুপি। তবে সরকারি এই মূল্য কার্যকর না থাকায় বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

দেশটির বিভিন্ন শহরে এলপিজির দামে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। বেলুচিস্তানের কোয়েটাসহ কয়েকটি এলাকায় প্রতি কেজি গ্যাস ৫৩০ থেকে ৭০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। করাচি ও লাহোরে এই দাম ৫২০ থেকে ৫৮০ রুপি। অন্যদিকে পেশোয়ারে প্রতি কেজি এলপিজির জন্য ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ রুপি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

লাহোরের স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার প্রতি কেজি এলপিজির মূল্য ২৯৪ রুপি নির্ধারণ করলেও খুচরা বাজারে তা ৫৫০ থেকে ৬০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে গ্যাসের দাম ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

এলপিজির বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক। লাহোরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের মূল্যকে প্রভাবিত করেছে।

তবে গত ছয় মাসে পাকিস্তান সফলভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

আলী পারভেজ মালিক আরও জানান, কাতার থেকে পাকিস্তানে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার ভর্তুকি দিয়ে পেট্রোল সরবরাহ করছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে এলপিজির মূল্য নির্ধারণে সরকারের নতুন উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান এলপিজি মার্কেটার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আলী হায়দার জানিয়েছেন, এলপিজির দাম নির্ধারণসংক্রান্ত একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নীতি বাস্তবায়িত হলে এলপিজির মূল্য আরও ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অংশীজনদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা না করেই নীতিটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

আলী হায়দারের আশঙ্কা, নতুন নীতির কারণে এলপিজির দাম বাড়লে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতা—দুই পক্ষই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। এ পরিস্থিতিতে এলপিজি খাতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে বাজারব্যবস্থা উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: জিও নিউজ

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD