Logo

স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর থানায় গিয়ে কনস্টেবলের ধর্ষণের শিকার নারী

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১ নভেম্বর, ২০২৬, ২০:০৯
স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর থানায় গিয়ে কনস্টেবলের ধর্ষণের শিকার নারী
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ঝাড়খণ্ডে স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের পর নিরাপত্তার আশায় থানায় গিয়ে এক পুলিশ কনস্টেবলের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নারী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কনস্টেবলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর রাতে ওই নারী থানায় অভিযোগ দায়ের করতে যান। পরে সেখানে পুলিশ কনস্টেবলের ধর্ষণের শিকার হন তিনি। এই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গামহারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগে বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর শারীরিক নির্যাতনের ভয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে নিজের মোবাইল ফোন থেকে থানায় যোগাযোগ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল যান ওই রাতেই তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে বিশ্রামের জন্য থানার ভেতরেই একটি কক্ষের ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু তিনি ওই কক্ষে থাকা অবস্থায় থানার ওয়্যারলেস অপারেটর হিসেবে কর্মরত অভিযুক্ত কনস্টেবল তার ওপর হামলে পড়েন এবং তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এই ঘটনা জানার পর সেরাইকেলার সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসপি) মনোজ স্বর্গিয়ারী বিষয়টি তদন্তের জন্য সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) অনুভব ভরদ্বাজকে নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা মেলায় এসডিপিওর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়।

দায়িত্বে অবহেলা, দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও চরম শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এসপি গামহারিয়া থানার ওসি এবং অপর চার কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বরখাস্তকৃত পাঁচ সদস্যকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ওই ঘটনার সময় অভিযুক্তের পরিহিত পোশাক আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ এবং তা পরীক্ষার জন্য রাঁচির ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

বিজ্ঞাপন

ন্যাকারজনক এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি বলেছে, পুলিশ প্রশাসন কাউকে ভয় না পাওয়ায় ঝাড়খণ্ডে এ ধরনের ঘটনা এখন অহরহ ঘটছে।

ঝাড়খণ্ড বিজেপির সভাপতি ও রাজ্যসভার সংসদ সদস্য আদিত্য সাহু পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বড় অঙ্কের ঘুষ দিয়ে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন থানায় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পান।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন, এসব পুলিশ কর্মকর্তা সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রশ্রয়ে বালু, লৌহ আকরিক ও কয়লা চুরির সুযোগ করে দিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

আদিত্য সাহুর ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে রাজ্যের ক্ষমতাসীন জেএমএম, কংগ্রেস ও আরজেডি জোটের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে গেছে। তবে তাঁর এসব বক্তব্য রাজনৈতিক দলের অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD