চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

যশোরের অভয়নগরে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেন আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা জানান, তাঁর মেয়ে অভয়নগর উপজেলার বাহিরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয়ে টিফিনের সময় বাথরুমে যায় শিশুটি। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক বুইকারা গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে ইমরান হোসেন সেখানে প্রবেশ করেন। বাবার অভিযোগ, বাথরুমে শিশুটিকে একা পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি রক্তাক্ত জখম হয় বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার বিষয়ে কাউকে কিছু জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেন অভিযুক্ত শিক্ষক। এ কারণে ভয়ে শিশুটি বিষয়টি গোপন রাখে। পরে বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে ফিরে যায় সে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার সকালে মায়ের কাছে ঘটনার কথা জানায় শিশুটি। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। এ সময় শিশুটির শরীরে রক্তাক্ত জখমের চিহ্ন দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিশুটির বাড়িতে যান। পরে তাঁরা শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এরপর কর্মকর্তারা বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে গেলে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হয়ে বিদ্যালয় ঘিরে রাখেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার ও এলাকাবাসী। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
অভয়নগর থানার ওসি মোহাম্মদ নূরুজ্জামান জানান, একজন নারী পুলিশ সদস্য শিশুটির প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে শিক্ষক ইমরান হোসেনকে আসামি করে মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।








