Logo

কসবায় ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:৩৪
কসবায় ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ
অভিযুক্ত ইয়াসিন মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ইয়াসিন মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিশুটির মা। অভিযুক্তের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়ার কারণে মামলা করতে দেরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার।

বিজ্ঞাপন

শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কসবা থানায় মামলাটি করা হয়। রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে থানায় আনা হলে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে পুলিশ ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাদৈর ইউনিয়নের হাতুরাবাড়ী গ্রামের বাজারে সয়াবিন তেল কিনতে যায় শিশুটি। বাজার থেকে ফেরার পথে একটি ফার্নিচারের দোকানের মালিক ইয়াসিন মিয়া শিশুটির হাত ও মুখ চেপে ধরে দোকানের ভেতরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সেখানে জোরপূর্বক ধর্ষণের পর চিৎকার করলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরে শিশুটির হাতে ২০ টাকার একটি নোট দিয়ে দোকান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ভয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে শিশুটি তার মাকে ঘটনাটি জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিযুক্তের স্বজনদের বিষয়টি অবহিত করেন। এতে মামলা করতে দুই থেকে তিন দিন দেরি হয় বলে জানিয়েছে পরিবারটি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

শিশুটির বাবা জানান, ঘটনার পর সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শুক্রবার রাতে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে দুই পক্ষের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে ১২ জনের একটি বিচারক প্যানেল গঠন করে অভিযুক্তকে ক্ষমা চাওয়ানোর মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

তবে শিশুটির বাবা ওই বিচার মেনে না নিয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানান। এ সময় অভিযুক্ত ইয়াসিন মিয়া, বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম, কামাল হোসেন, শহিদ মিয়াসহ প্রতিপক্ষের লোকজন মামলা করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে পরিবারটি প্রথমে মামলা করতে ভয় পায়। পরে সন্তানের প্রতি নির্যাতনের বিচার চেয়ে শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শিশুটির মা থানায় মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগের বিষয়ে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে দুই বংশের লোকজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বৈঠকে বসেছিলেন। ধর্ষণের বিচার প্রচলিত আইন অনুযায়ী হবে, গণ্যমান্য ব্যক্তিরা করবেন না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে শিশুটির পরিবারকে সহযোগিতা করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল। অভিযুক্ত তাঁর আপনজন হলেও তার বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর চিকিৎসক ডা. শায়লা প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, হাতুরাবাড়ীতে শিশু ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত পলাতক থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD